০৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মিলন মারা গেছেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

মানিকগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক গোলাম সারোয়ার মিলন মারা গেছেন।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোর রাতে ঢাকার নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। পরে তাকে রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি বাসাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

গোলাম সারোয়ার মিলন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফাতেমা সারোয়ার, ছেলে সাবায়ের সারোয়ার এবং মেয়ে তানজিয়া সারোয়ার অমিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।

১৯৫৭ সালের ৬ নভেম্বর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মোতাহার হোসেন ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং মাতা হাসিনা বিশ্বাস।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮১-৮২ মেয়াদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি পান। এর আগে ভাসানী ন্যাপ-সমর্থিত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণও করেন তিনি।

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে দল পরিবর্তন করেছেন তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

মরহুমের ছেলে সাবায়ের সারোয়ার জানান, রবিবার বাদ যোহর মানিকগঞ্জের সিংগাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ঢাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপির নুসরাতের মনোনয়ন গ্রহণ করবে ইসি, আপিল না করার সিদ্ধান্ত

সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মিলন মারা গেছেন

Update Time : ১২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

মানিকগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক গোলাম সারোয়ার মিলন মারা গেছেন।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোর রাতে ঢাকার নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। পরে তাকে রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি বাসাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

গোলাম সারোয়ার মিলন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফাতেমা সারোয়ার, ছেলে সাবায়ের সারোয়ার এবং মেয়ে তানজিয়া সারোয়ার অমিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।

১৯৫৭ সালের ৬ নভেম্বর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মোতাহার হোসেন ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং মাতা হাসিনা বিশ্বাস।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮১-৮২ মেয়াদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি পান। এর আগে ভাসানী ন্যাপ-সমর্থিত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণও করেন তিনি।

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে দল পরিবর্তন করেছেন তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

মরহুমের ছেলে সাবায়ের সারোয়ার জানান, রবিবার বাদ যোহর মানিকগঞ্জের সিংগাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ঢাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।