০৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ১০ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শুধুমাত্র ঢাকা-সিলেট নয়, সারাদেশে ডাবল লাইনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত করতে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা সারাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত করতে চাই।

শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর উভয় পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম, প্লেনে এসেছিলাম। কিন্তু যাওয়ার সময় আমি বাইরোডে গিয়েছিলাম। নির্বাচনী জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বাইরোডে ঢাকা যেতে রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ যে, ঢাকা থেকে সিলেট যেতে মনে হয় প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

তিনি বলেন, সেদিন বলেছিলাম আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশাল্লাহ এই কাজটিতে হাত দেবো। যাতে যোগাযোগটা দ্রুত হয়। সরকার গঠন করার পর এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় রয়েছে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তখন জানতে পারলাম খুব সম্ভবত কাজটি যখন শুরু হয়, তখন বিভিন্ন জায়গায় জমি একোয়ার করতে সমস্যা হয় এবং বিভিন্ন কারণে ১১টি জায়গায় সমস্যা রয়েছে, প্রশাসনিক সমস্যাও রয়েছে। এছাড়া কিছু সমস্যা আছে যে কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আশা করছি দ্রুততম সময়ে এই কাজটি শুরু করতে পারবো। রাস্তার কাজ আমরা শুরু করতে পারবো, সময় লাগবে। তবে কাজটি শুরু করলে ইনশাল্লাহ শেষ তো একসময় হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশাল্লাহ শেষ করতে পারব। এর ফলে মানুষের যাতায়াতে এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাস্তা আমাদের বাড়ালেই যে সমস্যার সমাধান হবে তা না। একই সঙ্গে আমরা যদি রেলওয়েটাকে ডেভেলপ করতে পারি তাহলে কম খরচে যাতায়াত করা যাবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসায়িক মাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কম খরচে আনতে পারেন। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে রেল যোগাযোগ কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে। রেলব্যবস্থা উন্নত হলে স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ মানুষ এই মাধ্যমে যাতায়াতে আগ্রহী হবে, ফলে যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং ব্যবসায়িক খরচও হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, যতই সড়ক সম্প্রসারণ করা হোক, ততই নতুন যানবাহন যুক্ত হবে এবং ট্রাফিক চাপ বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে সম্ভবত অষ্টমস্থানে রয়েছে। আয়তনের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে ছোট। পাশাপাশি, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ।

ফলে নির্বিচারে সড়ক নির্মাণ করলে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে দেশ মোটামুটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং এই সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি।

তিনি করেন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে, তবে রেলখাতকে আরও অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট রুটের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ডাবল লাইন স্থাপনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে: ইরান

সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০১:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শুধুমাত্র ঢাকা-সিলেট নয়, সারাদেশে ডাবল লাইনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত করতে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা সারাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত করতে চাই।

শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর উভয় পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম, প্লেনে এসেছিলাম। কিন্তু যাওয়ার সময় আমি বাইরোডে গিয়েছিলাম। নির্বাচনী জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বাইরোডে ঢাকা যেতে রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ যে, ঢাকা থেকে সিলেট যেতে মনে হয় প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

তিনি বলেন, সেদিন বলেছিলাম আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশাল্লাহ এই কাজটিতে হাত দেবো। যাতে যোগাযোগটা দ্রুত হয়। সরকার গঠন করার পর এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় রয়েছে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তখন জানতে পারলাম খুব সম্ভবত কাজটি যখন শুরু হয়, তখন বিভিন্ন জায়গায় জমি একোয়ার করতে সমস্যা হয় এবং বিভিন্ন কারণে ১১টি জায়গায় সমস্যা রয়েছে, প্রশাসনিক সমস্যাও রয়েছে। এছাড়া কিছু সমস্যা আছে যে কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আশা করছি দ্রুততম সময়ে এই কাজটি শুরু করতে পারবো। রাস্তার কাজ আমরা শুরু করতে পারবো, সময় লাগবে। তবে কাজটি শুরু করলে ইনশাল্লাহ শেষ তো একসময় হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশাল্লাহ শেষ করতে পারব। এর ফলে মানুষের যাতায়াতে এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাস্তা আমাদের বাড়ালেই যে সমস্যার সমাধান হবে তা না। একই সঙ্গে আমরা যদি রেলওয়েটাকে ডেভেলপ করতে পারি তাহলে কম খরচে যাতায়াত করা যাবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসায়িক মাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কম খরচে আনতে পারেন। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে রেল যোগাযোগ কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে। রেলব্যবস্থা উন্নত হলে স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ মানুষ এই মাধ্যমে যাতায়াতে আগ্রহী হবে, ফলে যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং ব্যবসায়িক খরচও হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, যতই সড়ক সম্প্রসারণ করা হোক, ততই নতুন যানবাহন যুক্ত হবে এবং ট্রাফিক চাপ বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে সম্ভবত অষ্টমস্থানে রয়েছে। আয়তনের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে ছোট। পাশাপাশি, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ।

ফলে নির্বিচারে সড়ক নির্মাণ করলে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে দেশ মোটামুটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং এই সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি।

তিনি করেন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে, তবে রেলখাতকে আরও অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট রুটের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ডাবল লাইন স্থাপনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।