০২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৫ জেলায় বন্যার ঝুঁকি!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রোববার (২ আগস্ট) বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনে তিস্তা ও দুধকুমার নদ-নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ধরলা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা ছুঁতে পারে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। একই সময়ে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং সোমেশ্বরী-ভুগাই-কংস অববাহিকার শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চলেও প্লাবনের ঝুঁকি রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে কেবল কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিন সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

তৃতীয় দিনে রংপুর বিভাগ ও উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের, স্থিতিশীল রয়েছে যমুনার পানি। আগামী পাঁচ দিনে উভয় নদীর পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকতে পারে। এ ছাড়া গঙ্গার পানি কিছুটা কমেছে, পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিন পদ্মার পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে বাড়তে পারে, তবে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী ও কংস নদ-নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী নদীর পানিও বেড়েছে। ফেনী নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও গোমতী ও সেলোনিয়ার পানি কমেছে। আগামী এক দিনে এসব নদীর পানি বাড়তে পারে, আবার পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৫ জেলায় বন্যার ঝুঁকি!

Update Time : ১২:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রোববার (২ আগস্ট) বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনে তিস্তা ও দুধকুমার নদ-নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ধরলা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা ছুঁতে পারে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। একই সময়ে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং সোমেশ্বরী-ভুগাই-কংস অববাহিকার শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চলেও প্লাবনের ঝুঁকি রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে কেবল কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিন সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

তৃতীয় দিনে রংপুর বিভাগ ও উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের, স্থিতিশীল রয়েছে যমুনার পানি। আগামী পাঁচ দিনে উভয় নদীর পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকতে পারে। এ ছাড়া গঙ্গার পানি কিছুটা কমেছে, পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিন পদ্মার পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে বাড়তে পারে, তবে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী ও কংস নদ-নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী নদীর পানিও বেড়েছে। ফেনী নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও গোমতী ও সেলোনিয়ার পানি কমেছে। আগামী এক দিনে এসব নদীর পানি বাড়তে পারে, আবার পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।