০৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় জ্বালানির চাহিদা মেটাচ্ছে গোবরের মশাল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ Time View

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা ঃ

পাইকগাছা উপজেলায় জ্বালানি হিসেবে কাঠের বিকল্প হিসেবে গোবরের তৈরি মশাল বা শলকার চাহিদা বাড়ছে। রান্নার জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম ও কাঠের সংকটের কারণে গোবরের শলকা বা মশাল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি কাঠ ও গ্যাসের চড়া দামের বিকল্প হিসেবে গরুর গোবর দিয়ে তৈরি শলকা (ঘুঁটে বা মশাল) জ্বালানির চাহিদা ব্যাপকভাবে মেটাচ্ছে। পাটকাটি বা বাঁশের কঞ্চিতে গোবর মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি এই সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা নভেম্বর থেকে মার্চ মাসে তৈরি করে সারা বছর ব্যবহার করা হয়। এটি যেমন সংসারের খরচ কমাচ্ছে, তেমনি গবাদি পশু পালনকারীদের জন্য উপার্জনের উৎসও হয়েছে।

পাইকগাছার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারের বধূরা গৃহপালিত গরুর গোবরের মশাল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। স্থানীয় ভাষায় গোবরের জ্বালানি হিসেবে শলাকে মশাল বা বড়ে বলে। তাছাড়া গোবর থেকে ঘুঁটে, নুড়ে ও চাপটা তৈরি করা হয়। হিতামপুর গ্রামের রহিমা বেগম জানান, তার স্বামী শ্রমিকের কাজ করে, যা উপার্জন করে তা দিয়ে সংসার ঠিকমত চলে না। ঘরের জ্বালানি চাহিদা মিটিয়ে গোবরের মশাল বিক্রি করে যে টাকা পান তিনি তা সংসারে খরচ করেন। একশত মশাল দুইশত টাকা দরে বিক্রি হয়। ব্যবসাহীরা গ্রামে ঘুরে পাইকারি দরে মশাল ক্রয় করে তা বাজারে বিক্রি করে। তিনি আরো জানান, শলকা দিয়ে নিজেদের জ্বালানি সমস্যা তো দূর হচ্ছে আবার তা বাজারে বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন।

গোবর নরম করে পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চির সঙ্গে মিশিয়ে গোল বা চ্যাপ্টা আকারে রোদে শুকিয়ে এই লাকড়ি তৈরি করা হয়। সাধারণত পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চির চারদিকে কাঁচা গোবর ও তুষ (কুড়া) মিশিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর এগুলো রোদে ৩-৬ দিন শুকিয়ে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। গ্রামের নারীরা এটি রান্নার কাজে ব্যবহার করেন, যা চুলায় বেশিক্ষণ জ্বলে। শুকনো মৌসুমে তৈরি করে রাখলে বর্ষাকালেও নির্বিঘ্নে রান্না করা যায়। অব্যাহত মূল্যস্ফীতির বাজারে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চড়া দামের এলপিজি সিলিন্ডারের পরিবর্তে গোবরের এই শলকা বা ঘুঁটে ব্যবহার করে সাশ্রয় করছেন। এটি কাঠের একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প। শুকনো গোবরের ছাই কৃষিতে ব্যবহার করা যায়, যা ভালো মানের জৈব সার।

উপকূলের এ উপজেলায় জ্বালানি সংকটের বিকল্প হিসেবে গোবরের তৈরি শলকা ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার বলেন, কিছুদিন আগে এর ব্যবহার ছিল গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রায় সব শ্রেণির মানুষ এ গোবরের শলা স্বল্পমূল্যে কিনে জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের মহিলারা গোবরের শলা তৈরি করে নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়েও তা বিক্রি করে সংসারের খরচ চালিয়ে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী হেনস্তার প্রতিবাদে মোংলায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

পাইকগাছায় জ্বালানির চাহিদা মেটাচ্ছে গোবরের মশাল

Update Time : ০৮:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা ঃ

পাইকগাছা উপজেলায় জ্বালানি হিসেবে কাঠের বিকল্প হিসেবে গোবরের তৈরি মশাল বা শলকার চাহিদা বাড়ছে। রান্নার জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম ও কাঠের সংকটের কারণে গোবরের শলকা বা মশাল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি কাঠ ও গ্যাসের চড়া দামের বিকল্প হিসেবে গরুর গোবর দিয়ে তৈরি শলকা (ঘুঁটে বা মশাল) জ্বালানির চাহিদা ব্যাপকভাবে মেটাচ্ছে। পাটকাটি বা বাঁশের কঞ্চিতে গোবর মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি এই সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা নভেম্বর থেকে মার্চ মাসে তৈরি করে সারা বছর ব্যবহার করা হয়। এটি যেমন সংসারের খরচ কমাচ্ছে, তেমনি গবাদি পশু পালনকারীদের জন্য উপার্জনের উৎসও হয়েছে।

পাইকগাছার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারের বধূরা গৃহপালিত গরুর গোবরের মশাল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। স্থানীয় ভাষায় গোবরের জ্বালানি হিসেবে শলাকে মশাল বা বড়ে বলে। তাছাড়া গোবর থেকে ঘুঁটে, নুড়ে ও চাপটা তৈরি করা হয়। হিতামপুর গ্রামের রহিমা বেগম জানান, তার স্বামী শ্রমিকের কাজ করে, যা উপার্জন করে তা দিয়ে সংসার ঠিকমত চলে না। ঘরের জ্বালানি চাহিদা মিটিয়ে গোবরের মশাল বিক্রি করে যে টাকা পান তিনি তা সংসারে খরচ করেন। একশত মশাল দুইশত টাকা দরে বিক্রি হয়। ব্যবসাহীরা গ্রামে ঘুরে পাইকারি দরে মশাল ক্রয় করে তা বাজারে বিক্রি করে। তিনি আরো জানান, শলকা দিয়ে নিজেদের জ্বালানি সমস্যা তো দূর হচ্ছে আবার তা বাজারে বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন।

গোবর নরম করে পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চির সঙ্গে মিশিয়ে গোল বা চ্যাপ্টা আকারে রোদে শুকিয়ে এই লাকড়ি তৈরি করা হয়। সাধারণত পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চির চারদিকে কাঁচা গোবর ও তুষ (কুড়া) মিশিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর এগুলো রোদে ৩-৬ দিন শুকিয়ে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। গ্রামের নারীরা এটি রান্নার কাজে ব্যবহার করেন, যা চুলায় বেশিক্ষণ জ্বলে। শুকনো মৌসুমে তৈরি করে রাখলে বর্ষাকালেও নির্বিঘ্নে রান্না করা যায়। অব্যাহত মূল্যস্ফীতির বাজারে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চড়া দামের এলপিজি সিলিন্ডারের পরিবর্তে গোবরের এই শলকা বা ঘুঁটে ব্যবহার করে সাশ্রয় করছেন। এটি কাঠের একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প। শুকনো গোবরের ছাই কৃষিতে ব্যবহার করা যায়, যা ভালো মানের জৈব সার।

উপকূলের এ উপজেলায় জ্বালানি সংকটের বিকল্প হিসেবে গোবরের তৈরি শলকা ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার বলেন, কিছুদিন আগে এর ব্যবহার ছিল গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রায় সব শ্রেণির মানুষ এ গোবরের শলা স্বল্পমূল্যে কিনে জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের মহিলারা গোবরের শলা তৈরি করে নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়েও তা বিক্রি করে সংসারের খরচ চালিয়ে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।