১২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে বনদস্যুদের দাপট, একশর বেশি জেলে বন্দি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সুন্দরবনের শেলার চর, সুন্দরবন ও আশেপাশের বিভিন্ন চর এলাকায় বনদস্যুদের দাপট নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সক্রিয় একাধিক দস্যুবাহিনী বনদস্যু বাহিনী গড়ে তুলেছে আতঙ্ক এবং বহু জেলের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করে দিয়েছে।

জানা গেছে, অন্তত একশর বেশি জেলে বর্তমানে তাদের বন্দি রয়েছে।

গেল ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত। সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর শেলার চরের জেলেরা গভীর ঘুমে ছিল। রাত দেড়টার দিকে হানা দেয় একদল বনদস্যু। ছয়জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরোধ সম্ভব হয়নি।

পরদিন প্রতিজনকে দুইলাখ টাকা করে মুক্তিপন দাবি করা হয়। স্বজনরা এত টাকা যোগাড় করতে না পারায় জেলেরা এখনও বন্দি রয়েছে।

এ ছাড়াও নারকেলবাড়িয়া চর থেকে নয়জন, মেহের আলী চর, আলোর কোল, দুবলা থেকে আরও একাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে দস্যুরা। এদের মধ্যে অনেকেই পিরোজপুর, বরগুনা, মোড়েলগঞ্জ, সাতক্ষীরা, কয়রা ও রামপালের স্থানীয় জেলে।

শুটকি মৌসুমের শেষ দিকে এমন অপহরণ ও মুক্তিপনের দাবি জেলেদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জেলেরা জালে কম মাছ ধরেছে, ফলে স্বজনরাও তাদের উদ্ধার করতে পারছেন না।

জেলেরা জানাচ্ছেন, পূর্বে সরকারের সুবিধা নিয়ে আত্মসমর্পণ করা বনদস্যুরা ফের নিজ নামের পরিচয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। অস্ত্রশস্ত্রসহ বিপজ্জনক এই দস্যুরা জঙ্গলে এবং সমুদ্রের বিভিন্ন অংশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাদের হাতে বন্দুক, রাইফেলসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র রয়েছে। এই বাহিনীগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় কিছু যুবক ও অসাধু জেলে।

সুন্দরবনের বিভিন্ন চর এখন এক প্রকার নিরাপত্তাহীন। নারকেলবাড়িয়া, শেলার চর, মেহের আলী চর, আলোর কোল, দুবলা—এই সব জায়গায় জেলেরা আতঙ্কিত। শিকার মৌসুমে সমুদ্র ও জঙ্গলে মাছ ধরার সময়ও দস্যুরা হানা দিয়েছে। স্থানীয় জেলেরা বলছে, আগে সরকারের সহায়তায় যারা আত্মসমর্পণ করেছিল, তাদের অনেকেই পুনরায় দস্যু হিসেবে ফিরে এসেছে। তাদের কার্যক্রম এতটাই ভয়ঙ্কর যে, কেউ সহজভাবে নামও উচ্চারণ করতে চায় না।

শুটকি মৌসুম শেষের পথে। জেলের মাছ ধরার পরিমাণ কম এবং লোকসানে হওয়ায় স্বজনরা মুক্তিপনের অর্থ যোগাড় করতে পারছে না। ফলে অপহৃত জেলেদের ওপর চাপ বাড়ছে, পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

তবে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানাচ্ছেন, স্থানীয় ডিসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ আছে। তারা বলছেন, প্রতিদিনের মাছধরার ঝুঁকি এবং বনদস্যুদের হিংস্রতা তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও জীবিকা বিপন্ন করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনে বনদস্যুদের দাপট, একশর বেশি জেলে বন্দি

Update Time : ০১:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সুন্দরবনের শেলার চর, সুন্দরবন ও আশেপাশের বিভিন্ন চর এলাকায় বনদস্যুদের দাপট নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সক্রিয় একাধিক দস্যুবাহিনী বনদস্যু বাহিনী গড়ে তুলেছে আতঙ্ক এবং বহু জেলের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করে দিয়েছে।

জানা গেছে, অন্তত একশর বেশি জেলে বর্তমানে তাদের বন্দি রয়েছে।

গেল ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত। সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর শেলার চরের জেলেরা গভীর ঘুমে ছিল। রাত দেড়টার দিকে হানা দেয় একদল বনদস্যু। ছয়জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরোধ সম্ভব হয়নি।

পরদিন প্রতিজনকে দুইলাখ টাকা করে মুক্তিপন দাবি করা হয়। স্বজনরা এত টাকা যোগাড় করতে না পারায় জেলেরা এখনও বন্দি রয়েছে।

এ ছাড়াও নারকেলবাড়িয়া চর থেকে নয়জন, মেহের আলী চর, আলোর কোল, দুবলা থেকে আরও একাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে দস্যুরা। এদের মধ্যে অনেকেই পিরোজপুর, বরগুনা, মোড়েলগঞ্জ, সাতক্ষীরা, কয়রা ও রামপালের স্থানীয় জেলে।

শুটকি মৌসুমের শেষ দিকে এমন অপহরণ ও মুক্তিপনের দাবি জেলেদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জেলেরা জালে কম মাছ ধরেছে, ফলে স্বজনরাও তাদের উদ্ধার করতে পারছেন না।

জেলেরা জানাচ্ছেন, পূর্বে সরকারের সুবিধা নিয়ে আত্মসমর্পণ করা বনদস্যুরা ফের নিজ নামের পরিচয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। অস্ত্রশস্ত্রসহ বিপজ্জনক এই দস্যুরা জঙ্গলে এবং সমুদ্রের বিভিন্ন অংশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাদের হাতে বন্দুক, রাইফেলসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র রয়েছে। এই বাহিনীগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় কিছু যুবক ও অসাধু জেলে।

সুন্দরবনের বিভিন্ন চর এখন এক প্রকার নিরাপত্তাহীন। নারকেলবাড়িয়া, শেলার চর, মেহের আলী চর, আলোর কোল, দুবলা—এই সব জায়গায় জেলেরা আতঙ্কিত। শিকার মৌসুমে সমুদ্র ও জঙ্গলে মাছ ধরার সময়ও দস্যুরা হানা দিয়েছে। স্থানীয় জেলেরা বলছে, আগে সরকারের সহায়তায় যারা আত্মসমর্পণ করেছিল, তাদের অনেকেই পুনরায় দস্যু হিসেবে ফিরে এসেছে। তাদের কার্যক্রম এতটাই ভয়ঙ্কর যে, কেউ সহজভাবে নামও উচ্চারণ করতে চায় না।

শুটকি মৌসুম শেষের পথে। জেলের মাছ ধরার পরিমাণ কম এবং লোকসানে হওয়ায় স্বজনরা মুক্তিপনের অর্থ যোগাড় করতে পারছে না। ফলে অপহৃত জেলেদের ওপর চাপ বাড়ছে, পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

তবে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানাচ্ছেন, স্থানীয় ডিসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ আছে। তারা বলছেন, প্রতিদিনের মাছধরার ঝুঁকি এবং বনদস্যুদের হিংস্রতা তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও জীবিকা বিপন্ন করেছে।