স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। এর মধ্য দিয়েই শেষ হলো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে রোনালদোর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। সেই হারের পর শেষ বাঁশি বাজতেই চোখের পানি মুছতে দেখা যায় ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে। দর্শকদের উদ্দেশে হাততালি দিয়ে বিদায় জানান পর্তুগিজ অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় রোনালদো নিশ্চিত করেন, এটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ।
‘এভাবে বিশ্বকাপ শেষ করতে হচ্ছে, তাই খুব কষ্ট লাগছে। তবে আমি আগেই বলেছিলাম, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেব। সেটাই করেছি। তাই আমি সম্পূর্ণ পরিষ্কার বিবেক নিয়েই বিদায় নিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
‘হ্যাঁ, এটি আমার শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু জাতীয় দল নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। আবেগের মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না,’ যোগ করেন রোনালদো।
বিশ্বকাপে মোট ২৭টি ম্যাচ খেলেই শেষ করলেন রোনালদো। এই তালিকায় তার ওপরে আছেন শুধু আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, যিনি খেলেছেন ৩০টি ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৬ গোল এবং ২৩৩ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার দখলে।
পর্তুগালের হয়ে ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুটি উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপ ট্রফি অধরাই থেকে গেল তার।
এ নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমি দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়েছি। পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমার কাছে ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার অনুভূতি বিশ্বকাপ জয়ের সমান।’
২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছিলেন রোনালদো। সেই আসরেই সেমিফাইনালে উঠেছিল পর্তুগাল, যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য হয়ে রইল। বিশ্বকাপে মোট ১১টি গোল করেছেন তিনি, যা যৌথভাবে ইতিহাসের নবম সর্বোচ্চ।
এবারের বিশ্বকাপেও তিনটি গোল করেছেন রোনালদো। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। তবে স্পেনের বিপক্ষে গোলরক্ষক উনাই সিমনের রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেননি। এই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে টানা ৬০৯ মিনিট কোনো গোল না হজম করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন স্পেনের এই গোলরক্ষক।
ম্যাচ শেষে রোনালদোর ভূয়সী প্রশংসা করেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ, ‘সে একজন আদর্শ অধিনায়ক। আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন রোনালদোকে ঘিরে অনেক প্রশ্ন ছিল। কিন্তু সে শুধু গোল কিংবা অ্যাসিস্ট নয়, মাঠে তার দায়বদ্ধতা, নিবেদন এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে সবার জন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।’
পুরো ম্যাচে রোনালদোকে মাঠে রাখার সিদ্ধান্তও ব্যাখ্যা করেন মার্তিনেজ, ‘একটি দল যখন গোলের খোঁজে থাকে, তখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো একজন খেলোয়াড়কে তুলে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে। তার উপস্থিতিই প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি। বিশেষ করে স্থির বল কিংবা বক্সের ভেতরের যেকোনো পরিস্থিতিতে সে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই তাকে বদলি করার প্রশ্নই ওঠেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যেত, তাহলে হয়তো গনসালো রামোসকে নামানোর কথা ভাবা যেত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া যৌক্তিক হতো না।’
Reporter Name 





















