১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবি

কাফনের কাপড় পরে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের গণ-অনশন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও একতরফাভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কাফনের কাপড় পরে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

আজ বুধবার দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুর বিভাগীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গণ-অনশনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক শত আলুচাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনেককে কাফনের কাপড় পরে অংশ নিতে দেখা যায়, যা তাদের দুর্দশা ও ক্ষোভের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সহ-সভাপতি তসলিম উদ্দিন, আলু চাষী ও ব্যবসায়ী হাফেজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আলু চাষী আবু তাহের, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আলু উৎপাদনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে রংপুরের হিমাগারগুলোতে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী এলাকায় একই সেবার জন্য প্রতি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘একই দেশে একই ধরনের সেবার জন্য একেক অঞ্চলে একেক ধরনের ভাড়া গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রংপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে হিমাগার ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

সমিতির সহ-সভাপতি তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষক এমনিতেই লোকসানের মুখে। এর ওপর অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া কৃষকদের আরও সংকটে ফেলছে। দ্রুত তদন্ত করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না করলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।’

অনশনকারীরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন ও দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এ ছাড়া দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।’

রংপুর জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘কোল্ডস্টোরেজ ভাড়া কেজি প্রতি ৬.৭৫ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করার দাবিতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে অনশনে বসে ছিল। আমি নিজে উপস্থিত থেকে দুধ দিয়ে তাদের অনশন ভাঙিয়েছি। সরকার থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কোল্ড স্টোরেজ মালিক সমিতি, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সমন্বিতভাবে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ, জেবুন্নেসা আরও এক মামলায় গ্রেফতার

হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবি

কাফনের কাপড় পরে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের গণ-অনশন

Update Time : ০৯:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও একতরফাভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কাফনের কাপড় পরে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

আজ বুধবার দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুর বিভাগীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গণ-অনশনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক শত আলুচাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনেককে কাফনের কাপড় পরে অংশ নিতে দেখা যায়, যা তাদের দুর্দশা ও ক্ষোভের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সহ-সভাপতি তসলিম উদ্দিন, আলু চাষী ও ব্যবসায়ী হাফেজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আলু চাষী আবু তাহের, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আলু উৎপাদনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে রংপুরের হিমাগারগুলোতে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী এলাকায় একই সেবার জন্য প্রতি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘একই দেশে একই ধরনের সেবার জন্য একেক অঞ্চলে একেক ধরনের ভাড়া গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রংপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে হিমাগার ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

সমিতির সহ-সভাপতি তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষক এমনিতেই লোকসানের মুখে। এর ওপর অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া কৃষকদের আরও সংকটে ফেলছে। দ্রুত তদন্ত করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না করলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।’

অনশনকারীরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন ও দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এ ছাড়া দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।’

রংপুর জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘কোল্ডস্টোরেজ ভাড়া কেজি প্রতি ৬.৭৫ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করার দাবিতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে অনশনে বসে ছিল। আমি নিজে উপস্থিত থেকে দুধ দিয়ে তাদের অনশন ভাঙিয়েছি। সরকার থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কোল্ড স্টোরেজ মালিক সমিতি, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সমন্বিতভাবে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিবে।’