আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নজিরবিহীন পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে টানা এক দশকের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
ফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী বাছাই ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে। এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিজেপির নবনির্বাচিত বিধানসভা দলের বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে, যা কার্যত পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারণের পথ খুলে দেবে। রীতি অনুযায়ী, পরিষদীয় দলের নেতা-ই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী পদে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুরে পরাজিত করেছেন। একই সঙ্গে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে একাধিক নেতাকে রাখার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে যান। তার সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা, দপ্তর বণ্টন এবং শাসন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এর আগে নিউ টাউনের একটি হোটেলে মধ্যাহ্নভোজ সারেন অমিত শাহ। সেখানেই তার রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামীকাল শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত থাকতে পারেন।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার ভারসাম্যে এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের সূচনা হতে পারে।
এদিকে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসও রাজনৈতিক কৌশল পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে জরুরি বৈঠক করে নির্বাচনী ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অনিয়মের অভিযোগ আনেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। পাশাপাশি বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে প্রতিবাদ হিসেবে কালো পোশাক পরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন দলীয় বিধায়কদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে নতুন শক্তির উত্থান রাজ্যের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Reporter Name 




















