০৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন বাধ্যতামূলক: গভর্নর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ১৫৪ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জুলাই থেকে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে, ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’। ব্যাংকগুলো তাদের ১ শতাংশ মুনাফা দিয়ে এই তহবিল গঠন করেছে, যা এককালীন নয় বরং ধারাবাহিকভাবে সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ বিনিয়োগ করবে। এই উদ্যোগ উৎপাদনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে উদ্যোক্তাদের মূলধনের জোগান দেবে।

একইসঙ্গে এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএসআইসি চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও (এসএমই) এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, জুলাই থেকে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন বিনিয়োগের পাশাপাশি ভেঞ্চার ক্যাপিটালে আরও ৫০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সর্বজনীন ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ বা এমএফএস যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট এর মাধ্যমে নিরাপদে ও ক্যাশলেস লেনদেন করা সম্ভব হবে।

গ্রাহক সুবিধা কি?

ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং আউটলেটে পৃথক পৃথক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রাহক একই ছাতার নিচে অর্থাৎ ‘বাংলা কিউআর’ এ যে কোনো সময় লেনদেন করতে পারবেন। এটি সাধারণ মুুদি দোকান থেকে শুরু করে ঔষধের দোকান, ছোট মাঝারি বড় যে কেউ এর আওতায় সুবিধা নিতে পারবেন। স্মার্ট ফোনে কিউআর স্ক্যান করে লেনদেন করার সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা।

উদ্যোক্তাদের সুবিধা কি?

বিক্রেতা শুধু কিউআর কোড রাখবেন। ক্রেতা শুধু স্ক্যান করে পেমেন্ট নিশ্চত করবেন। যা সয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে যাবেন ক্রেতা ও বিক্রেতা। এতে প্রতিদিনের লেনদেন সয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভূক্ত থাকবে বিক্রেতার হিসেবে।

কীভাবে বাংলা কিউআর কোড নেবেন?

যেকোন ব্যাংকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, এসএনডি অ্যাকাউন্ট যেকোনো একটি হিসাব থাকলেই আপনি বাংলা কিউআর কোড নিতে পারবেন।

ব্যক্তির নামে ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং ব্যক্তির একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে।

এবার আপনি বাংলা কিউআর কোড পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অফিসার অথবা ম্যানেজারের কাছে জমা দিবেন। যিনি আপনার আবেদন ফরমের বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করে শাখা কর্তৃপক্ষ কার্ড ডিভিশনে পাঠিয়ে দিবেন।

৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে আপনার কিউআর কোড তৈরি হবে এবং আপনাকে এসএমএস বা মেইলে জানানো হবে।

ব্যাংকে হলে শাখার সিএমএস সফটওয়্যারে আপনার কিউআর কোডটি আপলোড করা হবে এবং শাখায় গেলে ডাউনলোড করে আপনাকে প্রদান করা হবে।

বাংলা কিউআর নিতে গ্রাহকের কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে?

মাইক্রো মার্চেন্ট অর্থাৎ যাদের মাসিক লেনদেনের সীমা যদি ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির এন আই কার্ড এর ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

রেগুলার মার্চেন্ট অর্থাৎ যাদের মাসিক লেনদেনের পরিমাণ যদি ১০ লক্ষ টাকার উপরে তাদের ক্ষেত্রে এন আই ডি কার্ড এর ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবির সাথে টিন সার্টিফিকেট এবং টিন রিটার্ন স্লিপের প্রয়োজন হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মোংলায় প্রটোকল ভেঙে জনতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী

জুলাই থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন বাধ্যতামূলক: গভর্নর

Update Time : ০৩:০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জুলাই থেকে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে, ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’। ব্যাংকগুলো তাদের ১ শতাংশ মুনাফা দিয়ে এই তহবিল গঠন করেছে, যা এককালীন নয় বরং ধারাবাহিকভাবে সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ বিনিয়োগ করবে। এই উদ্যোগ উৎপাদনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে উদ্যোক্তাদের মূলধনের জোগান দেবে।

একইসঙ্গে এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএসআইসি চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও (এসএমই) এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, জুলাই থেকে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন বিনিয়োগের পাশাপাশি ভেঞ্চার ক্যাপিটালে আরও ৫০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সর্বজনীন ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ বা এমএফএস যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট এর মাধ্যমে নিরাপদে ও ক্যাশলেস লেনদেন করা সম্ভব হবে।

গ্রাহক সুবিধা কি?

ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং আউটলেটে পৃথক পৃথক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রাহক একই ছাতার নিচে অর্থাৎ ‘বাংলা কিউআর’ এ যে কোনো সময় লেনদেন করতে পারবেন। এটি সাধারণ মুুদি দোকান থেকে শুরু করে ঔষধের দোকান, ছোট মাঝারি বড় যে কেউ এর আওতায় সুবিধা নিতে পারবেন। স্মার্ট ফোনে কিউআর স্ক্যান করে লেনদেন করার সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা।

উদ্যোক্তাদের সুবিধা কি?

বিক্রেতা শুধু কিউআর কোড রাখবেন। ক্রেতা শুধু স্ক্যান করে পেমেন্ট নিশ্চত করবেন। যা সয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে যাবেন ক্রেতা ও বিক্রেতা। এতে প্রতিদিনের লেনদেন সয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভূক্ত থাকবে বিক্রেতার হিসেবে।

কীভাবে বাংলা কিউআর কোড নেবেন?

যেকোন ব্যাংকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, এসএনডি অ্যাকাউন্ট যেকোনো একটি হিসাব থাকলেই আপনি বাংলা কিউআর কোড নিতে পারবেন।

ব্যক্তির নামে ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং ব্যক্তির একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে।

এবার আপনি বাংলা কিউআর কোড পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অফিসার অথবা ম্যানেজারের কাছে জমা দিবেন। যিনি আপনার আবেদন ফরমের বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করে শাখা কর্তৃপক্ষ কার্ড ডিভিশনে পাঠিয়ে দিবেন।

৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে আপনার কিউআর কোড তৈরি হবে এবং আপনাকে এসএমএস বা মেইলে জানানো হবে।

ব্যাংকে হলে শাখার সিএমএস সফটওয়্যারে আপনার কিউআর কোডটি আপলোড করা হবে এবং শাখায় গেলে ডাউনলোড করে আপনাকে প্রদান করা হবে।

বাংলা কিউআর নিতে গ্রাহকের কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে?

মাইক্রো মার্চেন্ট অর্থাৎ যাদের মাসিক লেনদেনের সীমা যদি ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির এন আই কার্ড এর ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

রেগুলার মার্চেন্ট অর্থাৎ যাদের মাসিক লেনদেনের পরিমাণ যদি ১০ লক্ষ টাকার উপরে তাদের ক্ষেত্রে এন আই ডি কার্ড এর ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবির সাথে টিন সার্টিফিকেট এবং টিন রিটার্ন স্লিপের প্রয়োজন হবে।