০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ১ Time View

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। অভিযুক্তের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার (১৩ মে) সকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হল ও বিভাগের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও ছাত্রী হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন এবং পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘ধর্ষকের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘প্রক্টরের পদত্যাগ, করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রথম দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগসহ কুইক রেসপন্স টিমে তাদের অন্তর্ভুক্তি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে বারবার নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতে প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রক্টরের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, প্রক্টর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তার দপ্তরে জমা পড়া বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগেরও কোনো সমাধান হয়নি।

আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করার অভিযোগ ছাত্র ইউনিয়নের বিরুদ্ধে

এদিকে, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনকে ‘হাইজ্যাক’ করার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থী।

আইন ও বিচার বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া অভিযোগ করে বলেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অরাজনৈতিক এ কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন।

তিনি বলেন- ছাত্রদল, ছাত্রশক্তিসহ সব রাজনৈতিক দল ও অরাজনৈতিক শিক্ষার্থী নির্বিশেষে সবাই আমাদের বোনের ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার বিচারের দাবিতে একত্র হয়েছিল। কিন্তু পূর্বঘোষণা ছাড়া ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিচার দাবির বিষয়টি বাদ দিয়ে মিছিলকে ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির দিকে নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এই দাবিগুলো নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমরা বামপন্থী ডিরেক্টেড এ মিছিলকে প্রত্যাখ্যান করছি। তারা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

জাবি ছাত্রদলের এই নেত্রী অভিযোগ করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাই, আমাদের বোনের প্রতি সংঘটিত অপরাধের বিচার চাই। কারও ব্যবহৃত দাবার গুটি হতে চাই না।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দলীয় প্রভাবে বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে মনে করে রাত ১২টার দিকে সাধারণ আন্দোলনকারীরা ধীরে ধীরে হলে ফিরতে শুরু করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন এলাকায় ওই শিক্ষার্থীকে গলায় কাপড় বা দড়িসদৃশ কিছু পেঁচিয়ে টেনে পাশের জঙ্গলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

Update Time : ০৫:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। অভিযুক্তের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার (১৩ মে) সকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হল ও বিভাগের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও ছাত্রী হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন এবং পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘ধর্ষকের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘প্রক্টরের পদত্যাগ, করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রথম দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগসহ কুইক রেসপন্স টিমে তাদের অন্তর্ভুক্তি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে বারবার নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতে প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রক্টরের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, প্রক্টর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তার দপ্তরে জমা পড়া বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগেরও কোনো সমাধান হয়নি।

আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করার অভিযোগ ছাত্র ইউনিয়নের বিরুদ্ধে

এদিকে, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনকে ‘হাইজ্যাক’ করার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থী।

আইন ও বিচার বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া অভিযোগ করে বলেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অরাজনৈতিক এ কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন।

তিনি বলেন- ছাত্রদল, ছাত্রশক্তিসহ সব রাজনৈতিক দল ও অরাজনৈতিক শিক্ষার্থী নির্বিশেষে সবাই আমাদের বোনের ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার বিচারের দাবিতে একত্র হয়েছিল। কিন্তু পূর্বঘোষণা ছাড়া ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিচার দাবির বিষয়টি বাদ দিয়ে মিছিলকে ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির দিকে নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এই দাবিগুলো নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমরা বামপন্থী ডিরেক্টেড এ মিছিলকে প্রত্যাখ্যান করছি। তারা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

জাবি ছাত্রদলের এই নেত্রী অভিযোগ করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাই, আমাদের বোনের প্রতি সংঘটিত অপরাধের বিচার চাই। কারও ব্যবহৃত দাবার গুটি হতে চাই না।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দলীয় প্রভাবে বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে মনে করে রাত ১২টার দিকে সাধারণ আন্দোলনকারীরা ধীরে ধীরে হলে ফিরতে শুরু করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন এলাকায় ওই শিক্ষার্থীকে গলায় কাপড় বা দড়িসদৃশ কিছু পেঁচিয়ে টেনে পাশের জঙ্গলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।