নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সেবাদানকারী ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন…তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করার যে প্রতিশ্রুতি আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে দিয়েছিলাম। জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই আমরা আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য ইতোমধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমিকভাবে এই কার্ড সারাদেশে সবাই পাবেন। আগামী ১৪ এপ্রিল তথা পহেলা বৈশাখ থেকে চালু হচ্ছে ‘‘ফার্মার্স কার্ড’’ বা ‘‘কৃষক কার্ড’’। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।’
‘আজ থেকে চালু হলো খতিব ইমাম মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এই সহায়তা দেওয়া হবে’, যোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই…যাতে করে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।’
তিনি বলেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।’ এ সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে বলেও জানান তারেক রহমান।
নাগরিকদেরও কিন্তু কিছু দায়-দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি…আমি আশা করি, আগামী ১০ বছরের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি। এক কাতারে রয়েছি। এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে।’
এ সময় মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান বিশ্বাসী অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী সবাইকে মিলেমিশে থাকার এবং একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
Reporter Name 




















