১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে বন্ধ সকল পর্যটন কেন্দ্র, নাফাখুমে আটকা ৮৭ জন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কার্যত দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। বন্যা, পাহাড়ধসের আশঙ্কা, সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলাটিতে প্রবল স্রোতে ভেসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে থানচির দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাতে ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইডসহ মোট ৮৭ জন আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত ভারী বর্ষণে থানচিতে সাঙ্গু নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলেই নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় পর্যটক ও গাইডরা আটকা পড়েন। জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

সবচেয়ে করুণ ঘটনাটি ঘটেছে সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়িতে। সেখানে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে আলিয়া সোলতানা নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

লামা ও আলীকদমে পাহাড়ি ঢল ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদমের প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে একটি বসতবাড়ির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবান জেলা সদরের কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপা পাড়া ও সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকার অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ায় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের গ্রীনপিক রিসোর্ট সংলগ্ন এলাকায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি হেলে পড়ে। এর ফলে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় টানা ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। এতে হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, খুঁটি হেলে পড়ার পরপরই নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয় এবং প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা সম্ভব হয়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সড়কের ওপর মাটি ও পাথর ধসে পড়ার কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়কগুলো সচল রাখতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানে বন্ধ সকল পর্যটন কেন্দ্র, নাফাখুমে আটকা ৮৭ জন

Update Time : ০৪:২১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কার্যত দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। বন্যা, পাহাড়ধসের আশঙ্কা, সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলাটিতে প্রবল স্রোতে ভেসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে থানচির দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাতে ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইডসহ মোট ৮৭ জন আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত ভারী বর্ষণে থানচিতে সাঙ্গু নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলেই নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় পর্যটক ও গাইডরা আটকা পড়েন। জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

সবচেয়ে করুণ ঘটনাটি ঘটেছে সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়িতে। সেখানে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে আলিয়া সোলতানা নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

লামা ও আলীকদমে পাহাড়ি ঢল ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদমের প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে একটি বসতবাড়ির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবান জেলা সদরের কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপা পাড়া ও সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকার অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ায় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের গ্রীনপিক রিসোর্ট সংলগ্ন এলাকায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি হেলে পড়ে। এর ফলে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় টানা ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। এতে হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, খুঁটি হেলে পড়ার পরপরই নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয় এবং প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা সম্ভব হয়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সড়কের ওপর মাটি ও পাথর ধসে পড়ার কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়কগুলো সচল রাখতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।