০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যাওয়া টেকনিশিয়ানের মৃত্যু, স্ত্রী-ছেলের পাশে দেব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ Time View

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা-প্রযোজক ও সংসদ সদস্য দীপক অধিকারী দেব পর্দায় সুপারস্টার, কিন্তু বাস্তবের মাটিতে তিনি যে এক বড়মাপের ‘মানুষ’, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন। শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো টেকনিশিয়ানের পরিবাবের পাশে দাঁড়ালেন এ অভিনেতা।
গ্ল্যামার আর আলোর দুনিয়ার নেপথ্যে যে মানুষগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, সেই টেকনিশিয়ানদের বিপদে পাশে দাঁড়াতে দেব সবসময় একধাপ এগিয়ে। ২০২১ সালের ৩০ জুলাই শুটিং চলাকালীন বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে অকালে প্রাণ হারান প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট গিল্ডের সদস্য রাজু মন্ডল। রাজুর অকালপ্রয়াণে সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছিল তার চার বছরের ছেলে রিশানের ওপর। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারিয়েছিল সে। এবার সেই রিশানের অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়ালেন দেব।
বিশেষ উদ্যোগে এবং তারই নির্দেশে সিনে প্রোডাকশন ম্যানেজারস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজুর পরিবারের হাতে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সাহায্য এখানেই শেষ নয়; দেবের নির্দেশানুসারে সংস্থা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ছোট্ট রিশানের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ তারা বহন করবে। প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ছাড়াও তার সারা বছরের বই, খাতা এবং স্কুলের পুনর্ভর্তি বা রি-অ্যাডমিশন ফির দায়িত্বও নিয়েছে এ সংস্থা।
নিজের মানবিক অবস্থান স্পষ্ট করে সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে নিয়েছেন এ সংসদ সদস্য। সেই পোস্টে দেব লিখেছেন—আমি সবসময় আমার টেকনিশিয়ান ভাইদের পাশে আছি। ঈশ্বর সবাইকে সুস্থ রাখুক—এ কামনাই করি। শুভ নববর্ষ।
টালিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি যখন সময়ের সঙ্গে ধুয়ে যায়, ঠিক তখনই দেবের এই দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানাচ্ছে টালিপাড়া। টেকনিশিয়ানদের কাছে দেব শুধু একজন অভিনেতাই নন, বরং এক নির্ভরযোগ্য ভরসার নাম। রাজু মন্ডলের মৃত্যু নিয়ে অনেক জলঘোলা হলেও কাজের কাজ করে দেখালেন দেব এবং তার সহযোগী সংস্থা। রিশানের চোখের নতুন স্বপ্ন যেন আজ দেবের মানবিকতায় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
সম্প্রতি দেবকে ঘিরে কম আলোচনা হয়নি টালিপাড়ায়। ডিরেক্টর্স গিল্ড ও ফেডারেশনের মধ্যে কিছু মতভেদ এবং পরে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেনের মতো অভিনেতারা কাজ করতে পারছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই দেব জানিয়ে দেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাকে কথা দিয়েছেন, যেসব শিল্পী কাজ করতে পারছেন না, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের কাজে ফেরাবেন তিনি। পর দিনই সামাজিক মাধ্যমে একটি আইনি চিঠি শেয়ার করে নেন দেব। এরপর ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি ডিরেক্টর্স গিল্ড। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে সেই চিঠি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করায় মনোক্ষুণ্ণ হন প্রসেনজিৎ। প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে সেই কথা বলেন বুম্বাদা। যদিও সেসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি দেব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে তিন সহস্রাধিক

বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যাওয়া টেকনিশিয়ানের মৃত্যু, স্ত্রী-ছেলের পাশে দেব

Update Time : ০৩:১৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা-প্রযোজক ও সংসদ সদস্য দীপক অধিকারী দেব পর্দায় সুপারস্টার, কিন্তু বাস্তবের মাটিতে তিনি যে এক বড়মাপের ‘মানুষ’, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন। শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো টেকনিশিয়ানের পরিবাবের পাশে দাঁড়ালেন এ অভিনেতা।
গ্ল্যামার আর আলোর দুনিয়ার নেপথ্যে যে মানুষগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, সেই টেকনিশিয়ানদের বিপদে পাশে দাঁড়াতে দেব সবসময় একধাপ এগিয়ে। ২০২১ সালের ৩০ জুলাই শুটিং চলাকালীন বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে অকালে প্রাণ হারান প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট গিল্ডের সদস্য রাজু মন্ডল। রাজুর অকালপ্রয়াণে সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছিল তার চার বছরের ছেলে রিশানের ওপর। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারিয়েছিল সে। এবার সেই রিশানের অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়ালেন দেব।
বিশেষ উদ্যোগে এবং তারই নির্দেশে সিনে প্রোডাকশন ম্যানেজারস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজুর পরিবারের হাতে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সাহায্য এখানেই শেষ নয়; দেবের নির্দেশানুসারে সংস্থা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ছোট্ট রিশানের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ তারা বহন করবে। প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ছাড়াও তার সারা বছরের বই, খাতা এবং স্কুলের পুনর্ভর্তি বা রি-অ্যাডমিশন ফির দায়িত্বও নিয়েছে এ সংস্থা।
নিজের মানবিক অবস্থান স্পষ্ট করে সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে নিয়েছেন এ সংসদ সদস্য। সেই পোস্টে দেব লিখেছেন—আমি সবসময় আমার টেকনিশিয়ান ভাইদের পাশে আছি। ঈশ্বর সবাইকে সুস্থ রাখুক—এ কামনাই করি। শুভ নববর্ষ।
টালিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি যখন সময়ের সঙ্গে ধুয়ে যায়, ঠিক তখনই দেবের এই দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানাচ্ছে টালিপাড়া। টেকনিশিয়ানদের কাছে দেব শুধু একজন অভিনেতাই নন, বরং এক নির্ভরযোগ্য ভরসার নাম। রাজু মন্ডলের মৃত্যু নিয়ে অনেক জলঘোলা হলেও কাজের কাজ করে দেখালেন দেব এবং তার সহযোগী সংস্থা। রিশানের চোখের নতুন স্বপ্ন যেন আজ দেবের মানবিকতায় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
সম্প্রতি দেবকে ঘিরে কম আলোচনা হয়নি টালিপাড়ায়। ডিরেক্টর্স গিল্ড ও ফেডারেশনের মধ্যে কিছু মতভেদ এবং পরে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেনের মতো অভিনেতারা কাজ করতে পারছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই দেব জানিয়ে দেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাকে কথা দিয়েছেন, যেসব শিল্পী কাজ করতে পারছেন না, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের কাজে ফেরাবেন তিনি। পর দিনই সামাজিক মাধ্যমে একটি আইনি চিঠি শেয়ার করে নেন দেব। এরপর ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি ডিরেক্টর্স গিল্ড। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে সেই চিঠি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করায় মনোক্ষুণ্ণ হন প্রসেনজিৎ। প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে সেই কথা বলেন বুম্বাদা। যদিও সেসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি দেব।