১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে: মোদি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ভারত পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।’
গতকাল বুধবার ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে দেওয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এই ভাষণে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি গণহত্যা নিয়ে কোনো কথা না বলে উল্টো ইসরাইয়েলের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মোদি।
উল্লেখ্য, দুই দিনের ইসরায়েল সফরের প্রথম দিন নেসেটে দেওয়া ভাষণে মোদিকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই প্রথম কোনো ভারতীয় নেতা নেসেটে ভাষণ দিলেন।
মোদী বলেন, ‘এই মুহূর্তে ও এর পরেও ভারত পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।’
তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলাকে ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করে আরও বলেন, ‘কোনো উদ্দেশ্যই সাধারণ মানুষের হত্যাকে ন্যায়সঙ্গত করতে পারে না।’
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোদীকে স্বাগত জানান। সেখানে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় দুই নেতা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানান।
নিজের নেসেট ভাষণে নেতানিয়াহু ভারতকে অক্টোবরের ৭ তারিখের পর থেকে ইসরায়েলের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ‘অভিন্ন স্বার্থ’ রয়েছে। মোদি আমাদের কাছে বন্ধুর চেয়েও বেশি, এক ভাই।’
মোদি বলেন, ‘ভারত-ইসরায়েল একে অন্যের বিশ্বস্ত অংশীদার ও এই সম্পর্ক বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। আমরা বহু ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি এ সম্পর্ককে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয়ের প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, মোদির ইসরায়েল সফর এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার তিন বছর পর তিনি প্রথম ইসরায়েল সফর করেন। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুও ভারত সফর করেছিলেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণপন্থি ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচের ভারত সফরের সময় দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তিতে সই করে, যার মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য রাখা হয়।
২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারত ইসরায়েলি অস্ত্র কিনেছে ২ হাজার ৫০ কোটি ডলারের, যা তাকে ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতায় পরিণত করেছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দাঁড়ায় ৩৯০ কোটি ডলারে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার সময় প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন মোদি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ৭২ হাজার ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৫৬ জন আহত হয়েছেন। গত অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায়ও অন্তত ৬১৫ জন নিহত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে: মোদি

Update Time : ০৩:২৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ভারত পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।’
গতকাল বুধবার ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে দেওয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এই ভাষণে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি গণহত্যা নিয়ে কোনো কথা না বলে উল্টো ইসরাইয়েলের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মোদি।
উল্লেখ্য, দুই দিনের ইসরায়েল সফরের প্রথম দিন নেসেটে দেওয়া ভাষণে মোদিকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই প্রথম কোনো ভারতীয় নেতা নেসেটে ভাষণ দিলেন।
মোদী বলেন, ‘এই মুহূর্তে ও এর পরেও ভারত পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।’
তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলাকে ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করে আরও বলেন, ‘কোনো উদ্দেশ্যই সাধারণ মানুষের হত্যাকে ন্যায়সঙ্গত করতে পারে না।’
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোদীকে স্বাগত জানান। সেখানে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় দুই নেতা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানান।
নিজের নেসেট ভাষণে নেতানিয়াহু ভারতকে অক্টোবরের ৭ তারিখের পর থেকে ইসরায়েলের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ‘অভিন্ন স্বার্থ’ রয়েছে। মোদি আমাদের কাছে বন্ধুর চেয়েও বেশি, এক ভাই।’
মোদি বলেন, ‘ভারত-ইসরায়েল একে অন্যের বিশ্বস্ত অংশীদার ও এই সম্পর্ক বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। আমরা বহু ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি এ সম্পর্ককে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয়ের প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, মোদির ইসরায়েল সফর এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার তিন বছর পর তিনি প্রথম ইসরায়েল সফর করেন। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুও ভারত সফর করেছিলেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণপন্থি ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচের ভারত সফরের সময় দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তিতে সই করে, যার মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য রাখা হয়।
২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারত ইসরায়েলি অস্ত্র কিনেছে ২ হাজার ৫০ কোটি ডলারের, যা তাকে ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতায় পরিণত করেছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দাঁড়ায় ৩৯০ কোটি ডলারে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার সময় প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন মোদি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ৭২ হাজার ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৫৬ জন আহত হয়েছেন। গত অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায়ও অন্তত ৬১৫ জন নিহত হন।