০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ১ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের টাকার দাবিতে স্ত্রীকে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী সদর মডেল থানার খালপাড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত দিনু মিয়া (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত দিনু মিয়া আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একটি সেলুনের কর্মচারী।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সামছুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার আসামিকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মীম আক্তার উপজেলার একই এলাকার জহিরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে দিনু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের মাহাদী নামে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

ভুক্তভোগী মীম আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে একটি সেলুন দেওয়ার জন্য বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার চাপ দিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা এনে দিতে না পারায় দিনু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাল ও হাতে আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে শাশুড়ির সহযোগিতায় তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, খবর পেয়ে তারা মীম আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদী থেকে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

Update Time : ০৮:০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের টাকার দাবিতে স্ত্রীকে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী সদর মডেল থানার খালপাড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত দিনু মিয়া (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত দিনু মিয়া আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একটি সেলুনের কর্মচারী।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সামছুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার আসামিকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মীম আক্তার উপজেলার একই এলাকার জহিরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে দিনু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের মাহাদী নামে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

ভুক্তভোগী মীম আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে একটি সেলুন দেওয়ার জন্য বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার চাপ দিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা এনে দিতে না পারায় দিনু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাল ও হাতে আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে শাশুড়ির সহযোগিতায় তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, খবর পেয়ে তারা মীম আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদী থেকে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’