০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওড়ের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেল ২১ গ্রামের কৃষকের স্বপ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১ Time View

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ২১ গ্রামের কৃষকের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টির চাপে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ধান নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার কৃষক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

চলতি বোরো মৌসুমে ছাতকে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ২৭টি পিআইসির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়; কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরমহল্লা হাওড়ের বাড়ুকা বিল, বাগেছড়া বিল, গোজাগাট্টি বিল ও বুড়াইর গিরি, ঝাওয়া বিলসহ কয়েকটি এলাকা প্রকল্পের আওতার বাইরে ছিল। সরকারি সহায়তা না পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা বহুবার আবেদন করেও সাড়া পাননি।

কৃষকদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ছাতকের তৎকালীন ইউএনও এবং ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে তারা লিখিত আবেদন করেছিলেন। চলতি বছরেও আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে কৃষকেরা নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করেন কিন্তু প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও সরকারি তদারকির অভাবে সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এক পর্যায়ে হাওড়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রশাসন সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এমন বিপর্যয় হতো না।

ছাতক পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দুজ্জামান নাহিদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত নয়- এমন হাওড়ের বাঁধের কাজ পিআইসির মাধ্যমে হয় না। এসব এলাকায় কৃষকরাই নিজেরা বাঁধ নির্মাণ করে থাকেন। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এসব হাওড়কে প্রকল্পের আওতায় আনার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

হাওড় ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, অনেক পিআইসিতে অপরিকল্পিতভাবে কাজ হওয়ায় ভাঙনরোধ সম্ভব হয়নি। চরমহল্লা ও বাগেছড়া হাওড়কে পিআইসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এ ক্ষতি হতো না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, অন্তত ১৫–২১ গ্রামের কৃষক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন জানান, বাগেছড়া হাওড়ের ৩৭ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা বলেন, নির্ধারিত সময়ে আবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে হাওড়টি পিআইসির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসনের গেজেট প্রকাশ বৃহস্পতিবার

হাওড়ের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেল ২১ গ্রামের কৃষকের স্বপ্ন

Update Time : ০৬:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ২১ গ্রামের কৃষকের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টির চাপে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ধান নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার কৃষক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

চলতি বোরো মৌসুমে ছাতকে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ২৭টি পিআইসির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়; কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরমহল্লা হাওড়ের বাড়ুকা বিল, বাগেছড়া বিল, গোজাগাট্টি বিল ও বুড়াইর গিরি, ঝাওয়া বিলসহ কয়েকটি এলাকা প্রকল্পের আওতার বাইরে ছিল। সরকারি সহায়তা না পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা বহুবার আবেদন করেও সাড়া পাননি।

কৃষকদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ছাতকের তৎকালীন ইউএনও এবং ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে তারা লিখিত আবেদন করেছিলেন। চলতি বছরেও আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে কৃষকেরা নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করেন কিন্তু প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও সরকারি তদারকির অভাবে সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এক পর্যায়ে হাওড়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রশাসন সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এমন বিপর্যয় হতো না।

ছাতক পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দুজ্জামান নাহিদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত নয়- এমন হাওড়ের বাঁধের কাজ পিআইসির মাধ্যমে হয় না। এসব এলাকায় কৃষকরাই নিজেরা বাঁধ নির্মাণ করে থাকেন। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এসব হাওড়কে প্রকল্পের আওতায় আনার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

হাওড় ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, অনেক পিআইসিতে অপরিকল্পিতভাবে কাজ হওয়ায় ভাঙনরোধ সম্ভব হয়নি। চরমহল্লা ও বাগেছড়া হাওড়কে পিআইসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এ ক্ষতি হতো না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, অন্তত ১৫–২১ গ্রামের কৃষক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন জানান, বাগেছড়া হাওড়ের ৩৭ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা বলেন, নির্ধারিত সময়ে আবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে হাওড়টি পিআইসির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।