০৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরাজয়ের পরও পদত্যাগ করেননি-কেন প্রথা ভাঙলেন মমতা?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মানচিত্র বদলের ঝড় বইছে। সত্তরোর্ধ্ব তুখোড় রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মসনদে উড়ছে গেরুয়া পতাকা। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম দুর্গের পতন ঘটানো মমতার এবার যাবার পালা।

রীতি অনুযায়ী করতে হবে পদ্ত্যাগ। ফল ঘোষণার পরও পদত্যাগ করেননি তিনি। প্রশ্ন উঠছে— কেন প্রথা ভাঙলেন তিনি। পদত্যাগ না করার আড়ালের অন্য কৌশলে মমতা যাচ্ছেন কি না এ নিয়ে চলচ্ছে জল্পনা।

নিশ্চিত পরাজয়েও পদত্যাগ অনিশ্চিত
এবারের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু দল নয় নিজ কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও পরাজিত হয়েছেন মমতা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে সরকার কার্যত পতনের মুখে—এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার পদত্যাগ দেওয়ার কথা। অথচ ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরও এখনও সেই পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

বরং ভোটগণনার দিনই তিনি ছুটে যান গণনাকেন্দ্রে। ভোট কারচুপির অভিযোগও তুলছেন। তাঁর দাবি—“১০০ আসন চুরি করা হয়েছে”, বিজেপির জয় “অনৈতিক”। এই অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর পাশাপাশি পদত্যাগের বিষয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

কী সেই প্রথা?
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজির রয়েছে ফল ঘোষণার পর পরাজয় বরণ করলে একটি নিয়ম মানতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে।

সেই নিয়ম হলো— ফলাফলের তথ্য নিশ্চিত হলেই রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই প্রশস্ত হয় নতুন সরকার গঠনের পথ। প্রয়োজনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্বে থাকেন।

টিভিনাইন বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার দিনই পদত্যাগপত্র জমা দেন। সেটাই ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক সৌজন্য ও রীতি।

আইনি লড়াইয়ে যাবেন মমতা?
এই প্রেক্ষাপটে মমতা পরাজিত হলেও পদত্যাগ পত্র জমা দেন নি। তার এই নীরবতা প্রশ্ন তুলছে—এটি কি বিলম্ব, নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক অবস্থান?এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন – এমন ধারণাও করা হচ্ছে। ভোট কারচুপির অভিযোগ সামনে এনে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

এটি পরাজয় মেনে নেওয়ার অনীহা নাকি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার কৌশলগত পদক্ষেপ- এমন ধারণাও রয়েছে বিশ্লেষকদের।

রাজভবনের ভূমিকা কী?
এখন নজর রাজভবনের দিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো রাজ্যপালের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে তার আগে যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা না দেন, তাহলে কী হবে?

হিন্দুস্থান টাইমস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী সরাসরি পদক্ষেপ সীমিত হলেও, পরিস্থিতি জটিল হলে রাজভবন বিকল্প পথ খুঁজতে পারে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হয়েছে বলেই।

রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অঙ্ক
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বিজেপির ভোট তৃণমূলকে ছাপিয়ে গেছে স্পষ্ট ব্যবধানে। ফলে উত্তরবঙ্গে কার্যত নিশ্চিহ্ন তৃণমূল, দক্ষিণবঙ্গেও ভাঙন।

এই প্রেক্ষাপটে মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, পুরো রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আসবেন মমতা
আজ বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক ও সম্ভাব্য সাংবাদিক সম্মেলন হওয়ার কথা। এর তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সেখানেই পদত্যাগের উত্তর মিলবে— নাকি নতুন রাজনৈতিক নতুন কোন রূপরেখার দেখা মিলতে পারে সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পরাজয়ের পরও পদত্যাগ করেননি-কেন প্রথা ভাঙলেন মমতা?

Update Time : ০৫:৩৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মানচিত্র বদলের ঝড় বইছে। সত্তরোর্ধ্ব তুখোড় রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মসনদে উড়ছে গেরুয়া পতাকা। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম দুর্গের পতন ঘটানো মমতার এবার যাবার পালা।

রীতি অনুযায়ী করতে হবে পদ্ত্যাগ। ফল ঘোষণার পরও পদত্যাগ করেননি তিনি। প্রশ্ন উঠছে— কেন প্রথা ভাঙলেন তিনি। পদত্যাগ না করার আড়ালের অন্য কৌশলে মমতা যাচ্ছেন কি না এ নিয়ে চলচ্ছে জল্পনা।

নিশ্চিত পরাজয়েও পদত্যাগ অনিশ্চিত
এবারের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু দল নয় নিজ কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও পরাজিত হয়েছেন মমতা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে সরকার কার্যত পতনের মুখে—এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার পদত্যাগ দেওয়ার কথা। অথচ ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরও এখনও সেই পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

বরং ভোটগণনার দিনই তিনি ছুটে যান গণনাকেন্দ্রে। ভোট কারচুপির অভিযোগও তুলছেন। তাঁর দাবি—“১০০ আসন চুরি করা হয়েছে”, বিজেপির জয় “অনৈতিক”। এই অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর পাশাপাশি পদত্যাগের বিষয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

কী সেই প্রথা?
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজির রয়েছে ফল ঘোষণার পর পরাজয় বরণ করলে একটি নিয়ম মানতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে।

সেই নিয়ম হলো— ফলাফলের তথ্য নিশ্চিত হলেই রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই প্রশস্ত হয় নতুন সরকার গঠনের পথ। প্রয়োজনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্বে থাকেন।

টিভিনাইন বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার দিনই পদত্যাগপত্র জমা দেন। সেটাই ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক সৌজন্য ও রীতি।

আইনি লড়াইয়ে যাবেন মমতা?
এই প্রেক্ষাপটে মমতা পরাজিত হলেও পদত্যাগ পত্র জমা দেন নি। তার এই নীরবতা প্রশ্ন তুলছে—এটি কি বিলম্ব, নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক অবস্থান?এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন – এমন ধারণাও করা হচ্ছে। ভোট কারচুপির অভিযোগ সামনে এনে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

এটি পরাজয় মেনে নেওয়ার অনীহা নাকি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার কৌশলগত পদক্ষেপ- এমন ধারণাও রয়েছে বিশ্লেষকদের।

রাজভবনের ভূমিকা কী?
এখন নজর রাজভবনের দিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো রাজ্যপালের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে তার আগে যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা না দেন, তাহলে কী হবে?

হিন্দুস্থান টাইমস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী সরাসরি পদক্ষেপ সীমিত হলেও, পরিস্থিতি জটিল হলে রাজভবন বিকল্প পথ খুঁজতে পারে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হয়েছে বলেই।

রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অঙ্ক
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বিজেপির ভোট তৃণমূলকে ছাপিয়ে গেছে স্পষ্ট ব্যবধানে। ফলে উত্তরবঙ্গে কার্যত নিশ্চিহ্ন তৃণমূল, দক্ষিণবঙ্গেও ভাঙন।

এই প্রেক্ষাপটে মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, পুরো রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আসবেন মমতা
আজ বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক ও সম্ভাব্য সাংবাদিক সম্মেলন হওয়ার কথা। এর তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সেখানেই পদত্যাগের উত্তর মিলবে— নাকি নতুন রাজনৈতিক নতুন কোন রূপরেখার দেখা মিলতে পারে সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।