সবুজদিন ডেস্ক।।
হাম ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ মাস বয়সী শিশু মো. তাকরিমের মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে পরিবারে। এক মাসের চিকিৎসা সংগ্রামের পর তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বুধবার সকালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শিশুটির মৃত্যুতে শোকাহত মা আমেনা বেগম ও বাবা মো. মহসীন হাসপাতাল চত্বরে বারবার ভেঙে পড়েন। সন্তান হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন মা, বারবার বলতে থাকেন, ছেলেকে বুকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান তিনি, কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ভোলার বাংলাবাজারের বাসিন্দা এই দম্পতি প্রথমে শিশুটিকে ভোলার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে তাকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, শিশুটির হাম ও হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া, রক্তে সংক্রমণ, মস্তিষ্কে সংক্রমণ ও পটাশিয়ামের ঘাটতিসহ একাধিক জটিলতা ছিল। এছাড়া তার জন্মগত হৃদরোগও ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়।
শিশুটির মা আমেনা বেগম বলেন, ছেলের হাতে ক্যানোলা থাকতে থাকতে হাত ফুলে গিয়েছিল। তিন বেলা ইনজেকশন দিতেন চিকিৎসকেরা। একসময় মুখে খাওয়ানোর ওষুধ দেন। ২০টির মতো মলমই লাগানো হয়।
শিশুর বাবা মো. মহসীন অভিযোগ করে বলেন, ভোলায় প্রথম পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা যায়নি। সময়মতো হাম শনাক্ত হলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের কাছে ১০০ বার জিজ্ঞেস করেছি বাচ্চাটার কি হাম হয়েছে? শুধু বলছে অ্যালার্জি হয়েছে। এবারও যদি হামের কথা বলত, তাহলে ছেলেকে আরও আগেই ঢাকায় নিয়ে আসতাম।’
এর আগে, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বাড়লে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। পরে এক মন্ত্রীর উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
তাকরিমের বাবা-মা গত মঙ্গলবার একাত্তর টিভিকে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে কেউ যদি তাকরিমকে নিয়ে নিতে চান, তাও তাঁরা দিতে রাজি আছেন। তাঁরা শুধু চান তাঁদের সন্তান বেঁচে থাকুক। বেসরকারি টেলিভিশনের এই প্রতিবেদন দেখে তাকরিমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মন্ত্রীর প্রতিনিধি এক লাখ টাকা দিয়ে গেছেন, তিনি হাসপাতালের বিল পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট বিল থেকে পরিবারকে এক লাখ টাকা ছাড় দিয়েছে।
Reporter Name 























