১০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৬ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর ও অম্লান স্মৃতির প্রতি জাতির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাও করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক ফেসবুক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ ছিল রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সংগীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য ও চিত্রকলার প্রতিটি শাখায় তিনি মানুষ, মানবতা, প্রেম, শান্তি ও প্রকৃতির জয়গান গেয়েছেন অসাধারণ শৈল্পিক দক্ষতায়। তাঁর সৃষ্টি শুধু সাহিত্য নয়, বাঙালির চিন্তা, সংস্কৃতি ও জীবনবোধেরও অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, সারা জীবনের যুক্তিবোধ ও মঙ্গলচিন্তা থেকেই রবীন্দ্রনাথ আন্তর্জাতিকতার বোধকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে নিরলস ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রবীন্দ্রসংগীত ছিল সংগ্রামী মানুষের প্রেরণার অন্যতম উৎস।

বার্তায় উঠে আসে বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনের কথাও। তারেক রহমান বলেন, শাশ্বত বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও জীবনের গভীর অনুভূতি বিশ্বস্ততার সঙ্গে ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রসাহিত্যে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনার যে কথক রবীন্দ্রনাথ, সেই সৃষ্টিশীলতার বড় অংশের জন্ম তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশে।

তিনি স্মরণ করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের কথাও। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ রবীন্দ্রনাথের অনবদ্য সৃষ্টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গান আজ জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।

রবীন্দ্রনাথের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বসাহিত্যে নতুন ইতিহাস গড়েন। প্রথম এশীয় হিসেবে এই সম্মান লাভ করে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।

বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, উগ্রবাদ ও মানবিক সংকটের সময়েও রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানবতা, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা দিয়েই রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববাসীর কাছে বাংলার বহুত্ববাদী ও মরমি চেতনাকে তুলে ধরেছিলেন।

শিক্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয় বার্তায়। নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন বিশ্বকবি। মানবতাবাদী এই কবি শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বকে জানার জানালা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সবসময়।

সবশেষে রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা

রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

Update Time : ০৮:১৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর ও অম্লান স্মৃতির প্রতি জাতির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাও করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক ফেসবুক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ ছিল রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সংগীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য ও চিত্রকলার প্রতিটি শাখায় তিনি মানুষ, মানবতা, প্রেম, শান্তি ও প্রকৃতির জয়গান গেয়েছেন অসাধারণ শৈল্পিক দক্ষতায়। তাঁর সৃষ্টি শুধু সাহিত্য নয়, বাঙালির চিন্তা, সংস্কৃতি ও জীবনবোধেরও অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, সারা জীবনের যুক্তিবোধ ও মঙ্গলচিন্তা থেকেই রবীন্দ্রনাথ আন্তর্জাতিকতার বোধকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে নিরলস ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রবীন্দ্রসংগীত ছিল সংগ্রামী মানুষের প্রেরণার অন্যতম উৎস।

বার্তায় উঠে আসে বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনের কথাও। তারেক রহমান বলেন, শাশ্বত বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও জীবনের গভীর অনুভূতি বিশ্বস্ততার সঙ্গে ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রসাহিত্যে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনার যে কথক রবীন্দ্রনাথ, সেই সৃষ্টিশীলতার বড় অংশের জন্ম তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশে।

তিনি স্মরণ করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের কথাও। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ রবীন্দ্রনাথের অনবদ্য সৃষ্টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গান আজ জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।

রবীন্দ্রনাথের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বসাহিত্যে নতুন ইতিহাস গড়েন। প্রথম এশীয় হিসেবে এই সম্মান লাভ করে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।

বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, উগ্রবাদ ও মানবিক সংকটের সময়েও রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানবতা, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা দিয়েই রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববাসীর কাছে বাংলার বহুত্ববাদী ও মরমি চেতনাকে তুলে ধরেছিলেন।

শিক্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয় বার্তায়। নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন বিশ্বকবি। মানবতাবাদী এই কবি শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বকে জানার জানালা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সবসময়।

সবশেষে রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।