০৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি-নেইমার নাকি ভিনিসিয়ুসের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৯৫ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘১০ নম্বর’ জার্সিটি হঠাৎ করেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এতদিন এই আইকনিক জার্সিতে নেইমারের যে একক আধিপত্য ছিল, জাতীয় দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অতিমানবীয় উত্থানের কারণে এখন তা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আলোচনাটা মূলত ডালপালা মেলে ব্রাজিলের এক প্রতিবেদনের পর, যেখানে দাবি করা হয়েছিল-নেইমারকে সরিয়ে এবার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিটি দেওয়া হতে পারে ভিনিসিয়ুসকে, আর নেইমার পরবেন ১৩ নম্বর জার্সি। যদিও পরবর্তীতে এই খবরটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের দুই ভাগে বিভক্ত করার জন্য এই গুঞ্জনটুকুই ছিল যথেষ্ট। সমর্থকদের অনেকের কাছেই এটি এখন আর কেবল জার্সির নম্বরের লড়াই নয়; এটি আসলে নেতৃত্ব, উত্তরাধিকার এবং সেলেসাওদের আগামী ফুটবল প্রজন্মের নতুন অধিনায়কের পরিচিতি নির্ধারণের লড়াই।

বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিটি এক বিশাল আবেগের নাম। ফুটবলের রাজা পেলে এই জার্সিটিকে বিশ্বজুড়ে এক রূপকথার প্রতীকে পরিণত করেছিলেন। পরবর্তীতে জিকো, রিভালদো, রোনালদিনহো এবং কাকার মতো মহাতারকারা এই জার্সির গৌরবের ইতিহাসে নিজেদের নাম সোনালী অক্ষরে লিখে গেছেন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে সেই ঐতিহ্যবাহী ব্যাটনটি নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন নেইমার। ২০১৩ সালের ২১ জুন থেকে প্রায় অবিরতভাবে এই ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিটি পরে খেলছেন সান্তোসের ফরোয়ার্ড।

জার্সিটির সঙ্গে নেইমারের এই আত্মিক সম্পর্ক কেবল ব্র্যান্ডিং বা আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাপ, পাহাড়সম প্রত্যাশা আর কিংবদন্তিদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত তুলনার বৃত্তে বন্দি থাকা এক প্রজন্মের কাছে নেইমারই ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আসল পোস্টার বয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক চোট আর সমালোচনা পিছু ছাড়েনি নেইমারের, তবুও জাতীয় দলের ভেতর সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি ফরোয়ার্ডের প্রভাব এখনও আগের মতোই শক্তিশালী। ড্রেসিংরুমে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে প্রবীণ তারকাদের এই অভিজ্ঞতা ও প্রভাব বেশ গুরুত্ব বহন করে; সতীর্থদের মাঝে নেইমারের প্রতি সমীহও এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি।

কিছুদিন আগেই রাফিনিয়া ব্রাজিল দলে নেইমারের গুরুত্বের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছিলেন, যা প্রমাণ করে দলের ভেতর মানসিকভাবে নেইমারের কর্তৃত্ব এখনো কতটা অটুট। সেই হিসেবে যদি স্কোয়াডের ভেতরের জ্যেষ্ঠতা মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে ১০ নম্বর জার্সিটি সম্ভবত নেইমারের গায়েই থাকছে; আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ফিরে যাবেন তার চেনা সেই ৭ নম্বর জার্সিতে, যা পরে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি নিয়মিত মাঠ মাতাচ্ছেন।

বিতর্কটা কিন্তু এখানেই দমে যাচ্ছে না। কারণ নেইমার যদি হন ব্রাজিলের সোনালী অতীত ও বর্তমান, তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র হলেন দলটির নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার নিজেকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী তারকায় রূপান্তর করেছেন। তাঁর অতিপ্রাকৃতিক গতি, আত্মবিশ্বাস আর চ্যাম্পিয়নস লিগের বড় মঞ্চে পারফর্ম করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা দেখে অনেক সমর্থকই এখন মনে করছেন—সেলেসাওদের আক্রমণভাগের মূল চাবিকাঠি এবার এই তরুণের হাতেই তুলে দেওয়া উচিত।

২০২৩ সালে নেইমারের চোটের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুস যখন প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিটি গায়ে জড়িয়েছিলেন, তরুণ ভক্তরা খুব দ্রুতই এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই জার্সি এখন নতুন এক যুগের প্রতীক।

অবশ্য নেইমারের সামনে এক অনন্য ঐতিহাসিক রেকর্ডের হাতছানিও রয়েছে। তিনি যদি আগামী বিশ্বকাপেও ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন, তবে ফুটবল সম্রাট পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে এই আইকনিক জার্সি পরার অনন্য কীর্তি গড়বেন তিনি।

মজার ব্যাপার হলো! ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ফিফার এক এলোমেলো ও লটারি সদৃশ নম্বর বণ্টনের কারণে পেলের গায়ে দুর্ঘটনাবশত জুটে গিয়েছিল এই ১০ নম্বর জার্সি, যা পরে ফুটবলের চিরন্তন এক প্রতীকে রূপ নেয়। আর দশকের পর দশক পেরিয়ে সেই একই জার্সি আজ আবারও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এক নতুন ঝড় তুলেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি-নেইমার নাকি ভিনিসিয়ুসের

Update Time : ০৫:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘১০ নম্বর’ জার্সিটি হঠাৎ করেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এতদিন এই আইকনিক জার্সিতে নেইমারের যে একক আধিপত্য ছিল, জাতীয় দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অতিমানবীয় উত্থানের কারণে এখন তা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আলোচনাটা মূলত ডালপালা মেলে ব্রাজিলের এক প্রতিবেদনের পর, যেখানে দাবি করা হয়েছিল-নেইমারকে সরিয়ে এবার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিটি দেওয়া হতে পারে ভিনিসিয়ুসকে, আর নেইমার পরবেন ১৩ নম্বর জার্সি। যদিও পরবর্তীতে এই খবরটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের দুই ভাগে বিভক্ত করার জন্য এই গুঞ্জনটুকুই ছিল যথেষ্ট। সমর্থকদের অনেকের কাছেই এটি এখন আর কেবল জার্সির নম্বরের লড়াই নয়; এটি আসলে নেতৃত্ব, উত্তরাধিকার এবং সেলেসাওদের আগামী ফুটবল প্রজন্মের নতুন অধিনায়কের পরিচিতি নির্ধারণের লড়াই।

বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিটি এক বিশাল আবেগের নাম। ফুটবলের রাজা পেলে এই জার্সিটিকে বিশ্বজুড়ে এক রূপকথার প্রতীকে পরিণত করেছিলেন। পরবর্তীতে জিকো, রিভালদো, রোনালদিনহো এবং কাকার মতো মহাতারকারা এই জার্সির গৌরবের ইতিহাসে নিজেদের নাম সোনালী অক্ষরে লিখে গেছেন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে সেই ঐতিহ্যবাহী ব্যাটনটি নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন নেইমার। ২০১৩ সালের ২১ জুন থেকে প্রায় অবিরতভাবে এই ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিটি পরে খেলছেন সান্তোসের ফরোয়ার্ড।

জার্সিটির সঙ্গে নেইমারের এই আত্মিক সম্পর্ক কেবল ব্র্যান্ডিং বা আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাপ, পাহাড়সম প্রত্যাশা আর কিংবদন্তিদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত তুলনার বৃত্তে বন্দি থাকা এক প্রজন্মের কাছে নেইমারই ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আসল পোস্টার বয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক চোট আর সমালোচনা পিছু ছাড়েনি নেইমারের, তবুও জাতীয় দলের ভেতর সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি ফরোয়ার্ডের প্রভাব এখনও আগের মতোই শক্তিশালী। ড্রেসিংরুমে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে প্রবীণ তারকাদের এই অভিজ্ঞতা ও প্রভাব বেশ গুরুত্ব বহন করে; সতীর্থদের মাঝে নেইমারের প্রতি সমীহও এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি।

কিছুদিন আগেই রাফিনিয়া ব্রাজিল দলে নেইমারের গুরুত্বের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছিলেন, যা প্রমাণ করে দলের ভেতর মানসিকভাবে নেইমারের কর্তৃত্ব এখনো কতটা অটুট। সেই হিসেবে যদি স্কোয়াডের ভেতরের জ্যেষ্ঠতা মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে ১০ নম্বর জার্সিটি সম্ভবত নেইমারের গায়েই থাকছে; আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ফিরে যাবেন তার চেনা সেই ৭ নম্বর জার্সিতে, যা পরে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি নিয়মিত মাঠ মাতাচ্ছেন।

বিতর্কটা কিন্তু এখানেই দমে যাচ্ছে না। কারণ নেইমার যদি হন ব্রাজিলের সোনালী অতীত ও বর্তমান, তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র হলেন দলটির নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার নিজেকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী তারকায় রূপান্তর করেছেন। তাঁর অতিপ্রাকৃতিক গতি, আত্মবিশ্বাস আর চ্যাম্পিয়নস লিগের বড় মঞ্চে পারফর্ম করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা দেখে অনেক সমর্থকই এখন মনে করছেন—সেলেসাওদের আক্রমণভাগের মূল চাবিকাঠি এবার এই তরুণের হাতেই তুলে দেওয়া উচিত।

২০২৩ সালে নেইমারের চোটের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুস যখন প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিটি গায়ে জড়িয়েছিলেন, তরুণ ভক্তরা খুব দ্রুতই এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই জার্সি এখন নতুন এক যুগের প্রতীক।

অবশ্য নেইমারের সামনে এক অনন্য ঐতিহাসিক রেকর্ডের হাতছানিও রয়েছে। তিনি যদি আগামী বিশ্বকাপেও ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন, তবে ফুটবল সম্রাট পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে এই আইকনিক জার্সি পরার অনন্য কীর্তি গড়বেন তিনি।

মজার ব্যাপার হলো! ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ফিফার এক এলোমেলো ও লটারি সদৃশ নম্বর বণ্টনের কারণে পেলের গায়ে দুর্ঘটনাবশত জুটে গিয়েছিল এই ১০ নম্বর জার্সি, যা পরে ফুটবলের চিরন্তন এক প্রতীকে রূপ নেয়। আর দশকের পর দশক পেরিয়ে সেই একই জার্সি আজ আবারও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এক নতুন ঝড় তুলেছে।