সবুজদিন রিপোর্ট।।
রহমানের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৫ এর চলমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ওই এলাকা পরিদর্শন এবং জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার (১ জুলাই) দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় ৩নং গলির এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
মীর শাহে আলম বলেন, দেশের সমগ্র জনপদের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব এলাকার সমস্যার সমাধানকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার আবেদন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতার নির্বাচনি এলাকা যেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন জারি করেছেন। এই অনুশাসনের ভিত্তিতে তিনি টিম লিডার হিসেবে আজ (বুধবার) ওই এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি দল ও বিরোধী দল আমরা একত্রে এলাকার সমস্যা সমাধানে মিলিত হয়েছি এবং জনগণের সহায়তায় আমরা সব সমস্যার সমাধান করব, ইনশাআল্লাহ।
জাতীয় স্বার্থে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
মীর শাহে আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে এগুলোর স্থায়ী সমাধান করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য ওয়াসা, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আমার কথা শুনেছেন এবং রেখেছেন। আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার সব উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদার হব এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো সুনির্দিষ্ট আসনের নন, বরং তিনি সমগ্র দেশের ৩০০ আসনেরই নেতা। প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সবকিছু কেবল সরকারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে আমাদেরকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস রেখে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে।
পরে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দবাজার খাল পরিদর্শনসহ পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ সংলগ্ন গলি, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
মতবিনিময়কালে স্থানীয় বাসিন্দারা ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। যার মধ্যে- পানির সংকট, গ্যাস সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এবং ভাঙা রাস্তার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। এর পাশাপাশি বাজারের অবৈধ দখল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মাদক ও কিশোর গ্যাং এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর কথাও তারা উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
Reporter Name 



















