সবুজদিন রিপোর্ট।।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মাধ্যমে জাস্টিস বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে তার বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এ দেশের জনগণ চায় তার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক। একইসঙ্গে তার প্রত্যর্পণের জন্য ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে।’
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক কোনো চাপের বিষয় নিয়ে ভাবছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে- (ক্ষমতাচ্যুত) শেখ হাসিনার বিচারের লক্ষ্যে তাকে প্রত্যর্পণ করতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া হয়েছে। আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি, কারণ আমরা এই রাষ্ট্রে ‘ইনসাফ’ ও ন্যায়বিচার (জাস্টিস) নিশ্চিত করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের জনগণ দেখতে চায় শেখ হাসিনা যে অপরাধ করেছেন, তার বিচার হোক এবং ইতোমধ্যে তার যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে তা বহাল এবং কার্যকর হোক।’
উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইসিটি আইনকে অত্যন্ত আধুনিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী সংস্কার করা হয়েছে। শেখ হাসিনা চাইলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিদেশি আইনজীবী এনে নিজেকে ডিফেন্ড করার সুযোগ পাবেন। এই আইসিটি আদালতে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও বিচার প্রক্রিয়া ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একেবারে স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া চলবে। তবে আদালতে শেখ হাসিনা যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি অপরাধী নন-সেক্ষেত্রে আদালত অন্য কোনো শাস্তিও দিতে পারে। সেজন্যই বলছি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা একজন মানুষকেও সরকার জাস্টিস দিতে চায়। জাস্টিস মূলত এভাবেই নিশ্চিত করতে হয়।’
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা কোনো নির্বাহী আদেশ বা সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। এটি সরাসরি আদালতের নির্দেশনা। রাষ্ট্র পরিচালনা ও আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ বডি হিসেবে সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের এই নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা। কোনো রাজনৈতিক দল বা গণমাধ্যম কর্মী যদি মনে করেন এই আদেশে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তবে তারা আদালতে গিয়ে এটি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আদালত তুলে নিলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে, কিন্তু যতক্ষণ নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে, সবাইকে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলতে হবে।’
Reporter Name 




















