০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপসাগরীয় ৩ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা হামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৬১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর টানা ব্যাপক হামলার জবাবে তেহরান নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে জর্ডান, বাহরাইন এবং কাতারে থাকা মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার জেরে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো ও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ দাবি করলেও, বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিওর বরাত দিয়ে এবিসি নিউজের এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, জর্ডান, বাহরাইন এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে মার্কিন বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম এবং হরমুজ প্রণালিকে হুমকির মুখে রাখার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

এদিকে, ইরানের এই হামলার আগে, টানা ষষ্ঠ রাতের মতো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের একাধিক শহর এবং পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ ও সিরিকসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও অনেকে আহত হন।

এর জবাবে ইরানও বসে থাকেনি। কুয়েত ও সিরিয়ার আল-তানফে মার্কিন বাহিনীর স্পেশাল অপারেশন কমান্ড সেন্টার ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্রে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এই হামলায় মার্কিন রাডার সিস্টেম ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যাপক হতাহতের দাবি করেছে তেহরান।

জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের এসব ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। আলাদা আলাদা বিবৃতিতে তারা এই হামলাগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ‘নগ্ন লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

পাশাপাশি মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগও (এমডব্লিউএল) এই হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে আক্রান্ত দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। আক্রান্ত দেশগুলোর সরকার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মোংলায় প্রটোকল ভেঙে জনতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী

উপসাগরীয় ৩ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা হামলা

Update Time : ১২:৩২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর টানা ব্যাপক হামলার জবাবে তেহরান নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে জর্ডান, বাহরাইন এবং কাতারে থাকা মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার জেরে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো ও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ দাবি করলেও, বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিওর বরাত দিয়ে এবিসি নিউজের এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, জর্ডান, বাহরাইন এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে মার্কিন বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম এবং হরমুজ প্রণালিকে হুমকির মুখে রাখার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

এদিকে, ইরানের এই হামলার আগে, টানা ষষ্ঠ রাতের মতো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের একাধিক শহর এবং পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ ও সিরিকসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও অনেকে আহত হন।

এর জবাবে ইরানও বসে থাকেনি। কুয়েত ও সিরিয়ার আল-তানফে মার্কিন বাহিনীর স্পেশাল অপারেশন কমান্ড সেন্টার ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্রে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এই হামলায় মার্কিন রাডার সিস্টেম ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যাপক হতাহতের দাবি করেছে তেহরান।

জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের এসব ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। আলাদা আলাদা বিবৃতিতে তারা এই হামলাগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ‘নগ্ন লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

পাশাপাশি মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগও (এমডব্লিউএল) এই হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে আক্রান্ত দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। আক্রান্ত দেশগুলোর সরকার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।