০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর

ক্লাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা, কাটেনি ভয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু নিহতদের স্বজনদের কাছে সময় যেন এখনো থমকে আছে সেই ভয়াবহ ২১ জুলাইয়ের দুপুরেই। হারানো সন্তানদের স্মৃতি আর অসমাপ্ত স্বপ্ন নিয়ে আজও বেঁচে আছেন তারা। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীদের অনেকের মনেও রয়ে গেছে সেই বিভীষিকার গভীর ক্ষত।

গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে পাইলট, এক শিক্ষিকা এবং ২৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। তাদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরলেও শরীরের ক্ষতের পাশাপাশি মানসিক ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত ৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন ছাড়া সবাই আবার নিয়মিত ক্লাসে ফিরেছে। তবে আকাশে বিমান উড়তে দেখলেই কিংবা স্কুল ছুটির সময় ঘনিয়ে এলে অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। একই ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে অভিভাবকদের মনেও।

অন্যদিকে, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য সময় যেন থেমে আছে। অনেক স্বজন এখনো মাঝেমধ্যে স্কুলে এসে হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে খুঁজে ফেরেন। তাদের অভিযোগ, এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হয়নি। সরকারি সহায়তার চেয়ে সুষ্ঠু বিচারই এখন তাদের প্রধান দাবি।

দুর্ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রায় তিন মাস তদন্ত শেষে ১৫০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও ১৬৮টি তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ৩৩ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণ চলাকালে পরিস্থিতি পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে স্থানান্তর এবং বরিশাল ও বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। পর্যাপ্ত সিঁড়ি না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে ট্র্যাজেডির প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি পালন করছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন আয়োজন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর

ক্লাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা, কাটেনি ভয়

Update Time : ০৮:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু নিহতদের স্বজনদের কাছে সময় যেন এখনো থমকে আছে সেই ভয়াবহ ২১ জুলাইয়ের দুপুরেই। হারানো সন্তানদের স্মৃতি আর অসমাপ্ত স্বপ্ন নিয়ে আজও বেঁচে আছেন তারা। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীদের অনেকের মনেও রয়ে গেছে সেই বিভীষিকার গভীর ক্ষত।

গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে পাইলট, এক শিক্ষিকা এবং ২৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। তাদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরলেও শরীরের ক্ষতের পাশাপাশি মানসিক ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত ৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন ছাড়া সবাই আবার নিয়মিত ক্লাসে ফিরেছে। তবে আকাশে বিমান উড়তে দেখলেই কিংবা স্কুল ছুটির সময় ঘনিয়ে এলে অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। একই ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে অভিভাবকদের মনেও।

অন্যদিকে, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য সময় যেন থেমে আছে। অনেক স্বজন এখনো মাঝেমধ্যে স্কুলে এসে হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে খুঁজে ফেরেন। তাদের অভিযোগ, এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হয়নি। সরকারি সহায়তার চেয়ে সুষ্ঠু বিচারই এখন তাদের প্রধান দাবি।

দুর্ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রায় তিন মাস তদন্ত শেষে ১৫০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও ১৬৮টি তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ৩৩ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণ চলাকালে পরিস্থিতি পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে স্থানান্তর এবং বরিশাল ও বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। পর্যাপ্ত সিঁড়ি না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে ট্র্যাজেডির প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি পালন করছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন আয়োজন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।