০৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে দেশজুড়ে ১৮ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধের ঘোষণা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৩৬ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

কমিশন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশে ১৮ ঘণ্টার জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী।

সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনায় সমাধান না এলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি পালন করা হবে।

কেন এই আন্দোলন?

সংগঠনের নেতারা জানান, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় তারা প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানিয়েছেন, অর্থাৎ অতিরিক্ত ৫ টাকা ৯৬ পয়সা কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন।

চার দফা দাবিতে আন্দোলন

কমিশন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংগঠনটি আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো—

গ্যাসের দাম বাড়লে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত আদায় বন্ধ করা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা।
সরকারি সুপারিশের কথাও তুলে ধরলেন নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, তারা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য নয়, বরং পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশন পুনর্নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন।

তিনি জানান, ২০১৭ সালে গঠিত একটি সরকারি কমিটি প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিনের সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীতে মূল্যস্ফীতি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় ২০২৪ সালের শুরুতেই কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সর্বশেষ গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়ায় পরিচালন ব্যয় আরও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

বিইআরসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতি অভিযোগ

সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, দাবি আদায়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো কার্যকর সাড়া পাননি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গত ১৮ জুলাই জরুরি সাধারণ সভায় ১২ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে দেশজুড়ে ১৮ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধের ঘোষণা

Update Time : ০৮:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

কমিশন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশে ১৮ ঘণ্টার জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী।

সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনায় সমাধান না এলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি পালন করা হবে।

কেন এই আন্দোলন?

সংগঠনের নেতারা জানান, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় তারা প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানিয়েছেন, অর্থাৎ অতিরিক্ত ৫ টাকা ৯৬ পয়সা কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন।

চার দফা দাবিতে আন্দোলন

কমিশন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংগঠনটি আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো—

গ্যাসের দাম বাড়লে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত আদায় বন্ধ করা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা।
সরকারি সুপারিশের কথাও তুলে ধরলেন নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, তারা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য নয়, বরং পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশন পুনর্নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন।

তিনি জানান, ২০১৭ সালে গঠিত একটি সরকারি কমিটি প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিনের সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীতে মূল্যস্ফীতি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় ২০২৪ সালের শুরুতেই কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সর্বশেষ গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়ায় পরিচালন ব্যয় আরও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

বিইআরসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতি অভিযোগ

সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, দাবি আদায়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো কার্যকর সাড়া পাননি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গত ১৮ জুলাই জরুরি সাধারণ সভায় ১২ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।