০৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ ‘ভাতৃপ্রতিম ৬ দেশের’ জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী নিরাপদ: ইরান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ১৫৩ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশসহভাতৃপ্রতিম ৬ টি দেশের জাহজকে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদে চলাচলের সবধরণের সহয়োগিতা করবে ইরানের সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে দেশটির ওই অঞ্চলে টহলরত সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একথা বলেন। খবর রয়টার্সের।
আব্বাস আরাঘচি এ সময় হরমুজ প্রণালী পুরোপুরো বন্ধ বলেন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর কে অপপ্রচার বলে নাকচ করে দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলে, এই পানিপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে যে দাবি ওঠেছে, তা সত্য নয় কয়েকটি দেশ, যাদেরকে ইরান ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ মনে করে তাদের জন্য নিরাপদে ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘অনেক জাহাজ মালিক বা এই জাহাজগুলোর মালিক দেশগুলো আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং প্রণালীটি দিয়ে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটিকে আমরা বন্ধুসুলভ মনে করি, অথবা অন্য কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা খবরে দেখেছেন চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। গত কয়েক রাতে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এবং আরো কিছু দেশ, এমনকি আমার বিশ্বাস বাংলাদেশও। এই দেশগুলো আমাদের সাথে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে, এবং যুদ্ধের পরেও ভবিষ্যতে এটি অব্যাহত থাকবে।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এই পথে চলতে দেয়া হবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বোমা হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার পাল্টা হিসেবে তেহরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করে। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে দৈনিক জ্বালানি পরিবহন প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে যায়।
জাহাজ চলাচল শিল্পের তথ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট লয়েড’স লিস্টের মতে, এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে। তবে, অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের তথ্যমতে, ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজগুলো মাত্র ১৫৫ বার এটি অতিক্রম করেছে—যা ৯৫ শতাংশ হ্রাস।
এর মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ট্যাঙ্কার ও গ্যাসবাহী জাহাজের, এবং এদের বেশির ভাগই প্রণালীটি থেকে পূর্ব দিকে যাচ্ছিল। বুধবার মাত্র দুটি জাহাজকে প্রণালীটি অতিক্রম করতে দেখা গেছে, উভয়ই পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলায় প্রটোকল ভেঙে জনতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশসহ ‘ভাতৃপ্রতিম ৬ দেশের’ জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী নিরাপদ: ইরান

Update Time : ০১:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশসহভাতৃপ্রতিম ৬ টি দেশের জাহজকে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদে চলাচলের সবধরণের সহয়োগিতা করবে ইরানের সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে দেশটির ওই অঞ্চলে টহলরত সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একথা বলেন। খবর রয়টার্সের।
আব্বাস আরাঘচি এ সময় হরমুজ প্রণালী পুরোপুরো বন্ধ বলেন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর কে অপপ্রচার বলে নাকচ করে দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলে, এই পানিপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে যে দাবি ওঠেছে, তা সত্য নয় কয়েকটি দেশ, যাদেরকে ইরান ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ মনে করে তাদের জন্য নিরাপদে ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘অনেক জাহাজ মালিক বা এই জাহাজগুলোর মালিক দেশগুলো আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং প্রণালীটি দিয়ে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটিকে আমরা বন্ধুসুলভ মনে করি, অথবা অন্য কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা খবরে দেখেছেন চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। গত কয়েক রাতে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এবং আরো কিছু দেশ, এমনকি আমার বিশ্বাস বাংলাদেশও। এই দেশগুলো আমাদের সাথে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে, এবং যুদ্ধের পরেও ভবিষ্যতে এটি অব্যাহত থাকবে।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এই পথে চলতে দেয়া হবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বোমা হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার পাল্টা হিসেবে তেহরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করে। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে দৈনিক জ্বালানি পরিবহন প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে যায়।
জাহাজ চলাচল শিল্পের তথ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট লয়েড’স লিস্টের মতে, এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে। তবে, অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের তথ্যমতে, ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজগুলো মাত্র ১৫৫ বার এটি অতিক্রম করেছে—যা ৯৫ শতাংশ হ্রাস।
এর মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ট্যাঙ্কার ও গ্যাসবাহী জাহাজের, এবং এদের বেশির ভাগই প্রণালীটি থেকে পূর্ব দিকে যাচ্ছিল। বুধবার মাত্র দুটি জাহাজকে প্রণালীটি অতিক্রম করতে দেখা গেছে, উভয়ই পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল।