০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়তি ভাড়া: যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব নিয়ে ক্ষোভ মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ১৫১ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

রোজার ঈদকে সামনে রেখে কেবল বাসেই প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় হবে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি যে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে তা নিয়ে ক্ষোভ ঝেরেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেছেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে জনৈক মোজাম্মেল হক ঈদযাত্রার বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় বলে একটি অসত্য বিবৃতি প্রদান করেছেন। আমরা এই অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কাল্পনিক এবং অবাস্তব বক্তব্য দিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
শুক্রবার পরীবাগে বোরাক টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১৪ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের যাতায়াত, ঈদের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যক্রম, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেওয়া ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট নানা কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে তারা ভিন্ন চিত্র পেয়েছেন।
সরকারি ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। আজ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটিবাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে।
মোজাম্মেল হকের এ তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বর্ণনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান পরিবহন মালিক সমিতির নেতা সাইফুল আলম।
তিনি বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনৈক মোজাম্মেল হককে মালিক শ্রমিক এবং দেশবাসীর নিকট তার মনগড়া, ভিত্তিহীন বক্তব্যের যথাযথ প্রমাণাদি উপস্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হব।
এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির খান বলেন, টার্মিনালের বাইরে কিছু অবৈধ কাউন্টার রয়েছে, সেগুলো মূলত প্রতিষ্ঠিত কোনো পরিবহনের কাউন্টার নয়। এগুলোতে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ যাত্রীদেরকে প্রতারণা করে টাকা বেশি নিয়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বাইপাইলে এক অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ২০০টি কাউন্টারের মধ্যে ১৫০টি কাউন্টার অবৈধ পাওয়া গেছে। পরে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
এসব অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।
বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ বলেন, প্রতিষ্ঠিত পরিবহনের নামের লোগো এবং নামের কৌশল পরিবর্তন করে কিছু কথিত ব্যবসায়ী আছে, যারা এ ধরনের অবৈধ কাজ করে থাকে। এদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দ্রুতই নেওয়া হবে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার রুটে বাস-মিনিবাসে ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াতে ৮৭ শতাংশ যাত্রীপ্রতি টিকেটে গড়ে ৩৫০ টাকা হারে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সেই হিসাবে এবারের দূরপাল্লার যাত্রীদের ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
সমিতি বলছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটিবাসে ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর ৮৭ শতাংশ যাত্রী প্রতি টিকেটে গড়ে ৫০ টাকা হারে বাড়তি দিলে ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। ফলে এবারের ঈদে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা শুধুমাত্র বাস-মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায় হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জি আর শহীদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলায় প্রটোকল ভেঙে জনতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী

বাড়তি ভাড়া: যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব নিয়ে ক্ষোভ মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের

Update Time : ০৩:১৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

রোজার ঈদকে সামনে রেখে কেবল বাসেই প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় হবে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি যে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে তা নিয়ে ক্ষোভ ঝেরেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেছেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে জনৈক মোজাম্মেল হক ঈদযাত্রার বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় বলে একটি অসত্য বিবৃতি প্রদান করেছেন। আমরা এই অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কাল্পনিক এবং অবাস্তব বক্তব্য দিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
শুক্রবার পরীবাগে বোরাক টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১৪ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের যাতায়াত, ঈদের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যক্রম, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেওয়া ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট নানা কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে তারা ভিন্ন চিত্র পেয়েছেন।
সরকারি ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। আজ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটিবাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে।
মোজাম্মেল হকের এ তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বর্ণনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান পরিবহন মালিক সমিতির নেতা সাইফুল আলম।
তিনি বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনৈক মোজাম্মেল হককে মালিক শ্রমিক এবং দেশবাসীর নিকট তার মনগড়া, ভিত্তিহীন বক্তব্যের যথাযথ প্রমাণাদি উপস্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হব।
এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির খান বলেন, টার্মিনালের বাইরে কিছু অবৈধ কাউন্টার রয়েছে, সেগুলো মূলত প্রতিষ্ঠিত কোনো পরিবহনের কাউন্টার নয়। এগুলোতে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ যাত্রীদেরকে প্রতারণা করে টাকা বেশি নিয়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বাইপাইলে এক অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ২০০টি কাউন্টারের মধ্যে ১৫০টি কাউন্টার অবৈধ পাওয়া গেছে। পরে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
এসব অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।
বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ বলেন, প্রতিষ্ঠিত পরিবহনের নামের লোগো এবং নামের কৌশল পরিবর্তন করে কিছু কথিত ব্যবসায়ী আছে, যারা এ ধরনের অবৈধ কাজ করে থাকে। এদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দ্রুতই নেওয়া হবে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার রুটে বাস-মিনিবাসে ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াতে ৮৭ শতাংশ যাত্রীপ্রতি টিকেটে গড়ে ৩৫০ টাকা হারে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সেই হিসাবে এবারের দূরপাল্লার যাত্রীদের ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
সমিতি বলছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটিবাসে ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর ৮৭ শতাংশ যাত্রী প্রতি টিকেটে গড়ে ৫০ টাকা হারে বাড়তি দিলে ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। ফলে এবারের ঈদে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা শুধুমাত্র বাস-মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায় হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জি আর শহীদ।