১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাতিল হলো ‘শেখ পরিবারের নিরাপত্তা আইন’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১৪ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯ রহিত করে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। এর মাধ্যমে শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধাদি বাতিল হলো।
বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনে রহিতকরণ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ গেজেট আকারে জারি করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৫ মে এই আইনের অধীনে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধাদি প্রদানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য আইনটি করা হয়েছিল, যা ছিল একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য। এই বৈষম্য দূর করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনটি রহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশটিই এখন স্থায়ী বিল আকারে সংসদে পাস করা হলো।
বিল পাসের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনটি বৈষম্যমূলক ছিল। রাষ্ট্রের সম্পদ একক পরিবারের জন্য বরাদ্দ রাখা সংবিধানের চেতনাবিরোধী। এই বিল পাসের মাধ্যমে আমরা সমতার নীতি প্রতিষ্ঠায় আরেকটি পদক্ষেপ নিলাম।’

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটির সমর্থন জানানো হলেও আওয়ামী লীগের পতনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির পক্ষ থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা এ আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা ছিল। বিল পাসের মাধ্যমে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও সুবিধা বিলুপ্ত হলো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

বাতিল হলো ‘শেখ পরিবারের নিরাপত্তা আইন’

Update Time : ০৬:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯ রহিত করে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। এর মাধ্যমে শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধাদি বাতিল হলো।
বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনে রহিতকরণ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ গেজেট আকারে জারি করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৫ মে এই আইনের অধীনে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধাদি প্রদানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য আইনটি করা হয়েছিল, যা ছিল একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য। এই বৈষম্য দূর করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনটি রহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশটিই এখন স্থায়ী বিল আকারে সংসদে পাস করা হলো।
বিল পাসের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনটি বৈষম্যমূলক ছিল। রাষ্ট্রের সম্পদ একক পরিবারের জন্য বরাদ্দ রাখা সংবিধানের চেতনাবিরোধী। এই বিল পাসের মাধ্যমে আমরা সমতার নীতি প্রতিষ্ঠায় আরেকটি পদক্ষেপ নিলাম।’

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটির সমর্থন জানানো হলেও আওয়ামী লীগের পতনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির পক্ষ থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা এ আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা ছিল। বিল পাসের মাধ্যমে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও সুবিধা বিলুপ্ত হলো।