০১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিক্রি হলো ‘নেইমার’, দাম ৮ লাখ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১৪ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যশোরের অভয়নগরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ১৩০০ কেজি ওজনের বিশালাকৃতির ষাঁড় ‘নেইমার’ শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৮ লাখে। পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী ষাঁড়টি কিনেছেন কোরবানির জন্য। গত রোববার ষাঁড়টি বিক্রি করা হয়।

অভয়নগর উপজেলার ডাঙ্গামশিহাটি গ্রামের খামারি নিরাঞ্জন পাড়ের খামারে লালন-পালন করা ফ্লেকভি জাতের এই শিংবিহীন ষাঁড়টি তার বিশাল দেহ ও ব্যতিক্রমী চুলের স্টাইলের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের সঙ্গে মিল রেখে এর নাম রাখা হয়েছিল ‘নেইমার’।

প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১৩০০ কেজি বা ৩৩ মণ। খামারি নিরাঞ্জন পাড়ে গত তিন বছর ধরে বিশেষ যত্নে গরুটিকে লালন-পালন করেছেন।

খামারি নিরাঞ্জন জানান, প্রতিদিন খৈল, খড়, ভুট্টার গুঁড়া ও দেশি সবুজ ঘাস খাওয়ানো হতো গরুটিকে। পুষ্টির জন্য মাঝে মাঝে খুদ চালের গরম ভাতও দেওয়া হতো। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার খেত ‘নেইমার’।
শুধু খাবার নয়, গরুটির পরিচর্যাতেও ছিল বাড়তি আয়োজন। গোয়ালঘরে কার্পেট বিছিয়ে রাখা, ২৪ ঘণ্টা ফ্যান চালু রাখা এবং নিয়মিত গোসল করানোর ব্যবস্থা ছিল তার জন্য।

নিরাঞ্জন পাড় বলেছেন, ‘নেইমার আমার পছন্দের খেলোয়ার আর সেকারণেই নাম রাখা হয়েছিল ‘নেইমার’। গত তিন বছরে খুব যত্নে লালন-পালন করেছিলাম ষাঁড়টিকে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। সে হিসেবে ৮ লাখে বিক্রিতে তেমন লাভ হয়নি তবে আমি খুশি।’

নিরাঞ্জন পাড়ের স্ত্রী ইতি পাড়ে বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মতো করে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালনের কারণে গরুটির স্বাস্থ্য ও স্বভাব দুটোই ভালো ছিল।’

কোরবানির হাট শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নেইমার’ ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু একনজর দেখতে খামারে ভিড় করতেন।

স্থানীয়দের মতে, বিশাল আকৃতি, শান্ত স্বভাব এবং ব্যতিক্রমী চেহারার কারণে ‘নেইমার’ এবার যশোর অঞ্চলের অন্যতম আলোচিত কোরবানির পশুতে পরিণত হয়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেট অধিবেশন শুরু ৭ জুন : স্পিকার

বিক্রি হলো ‘নেইমার’, দাম ৮ লাখ

Update Time : ০৬:১৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যশোরের অভয়নগরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ১৩০০ কেজি ওজনের বিশালাকৃতির ষাঁড় ‘নেইমার’ শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৮ লাখে। পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী ষাঁড়টি কিনেছেন কোরবানির জন্য। গত রোববার ষাঁড়টি বিক্রি করা হয়।

অভয়নগর উপজেলার ডাঙ্গামশিহাটি গ্রামের খামারি নিরাঞ্জন পাড়ের খামারে লালন-পালন করা ফ্লেকভি জাতের এই শিংবিহীন ষাঁড়টি তার বিশাল দেহ ও ব্যতিক্রমী চুলের স্টাইলের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের সঙ্গে মিল রেখে এর নাম রাখা হয়েছিল ‘নেইমার’।

প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১৩০০ কেজি বা ৩৩ মণ। খামারি নিরাঞ্জন পাড়ে গত তিন বছর ধরে বিশেষ যত্নে গরুটিকে লালন-পালন করেছেন।

খামারি নিরাঞ্জন জানান, প্রতিদিন খৈল, খড়, ভুট্টার গুঁড়া ও দেশি সবুজ ঘাস খাওয়ানো হতো গরুটিকে। পুষ্টির জন্য মাঝে মাঝে খুদ চালের গরম ভাতও দেওয়া হতো। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার খেত ‘নেইমার’।
শুধু খাবার নয়, গরুটির পরিচর্যাতেও ছিল বাড়তি আয়োজন। গোয়ালঘরে কার্পেট বিছিয়ে রাখা, ২৪ ঘণ্টা ফ্যান চালু রাখা এবং নিয়মিত গোসল করানোর ব্যবস্থা ছিল তার জন্য।

নিরাঞ্জন পাড় বলেছেন, ‘নেইমার আমার পছন্দের খেলোয়ার আর সেকারণেই নাম রাখা হয়েছিল ‘নেইমার’। গত তিন বছরে খুব যত্নে লালন-পালন করেছিলাম ষাঁড়টিকে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। সে হিসেবে ৮ লাখে বিক্রিতে তেমন লাভ হয়নি তবে আমি খুশি।’

নিরাঞ্জন পাড়ের স্ত্রী ইতি পাড়ে বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মতো করে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালনের কারণে গরুটির স্বাস্থ্য ও স্বভাব দুটোই ভালো ছিল।’

কোরবানির হাট শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নেইমার’ ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু একনজর দেখতে খামারে ভিড় করতেন।

স্থানীয়দের মতে, বিশাল আকৃতি, শান্ত স্বভাব এবং ব্যতিক্রমী চেহারার কারণে ‘নেইমার’ এবার যশোর অঞ্চলের অন্যতম আলোচিত কোরবানির পশুতে পরিণত হয়েছিল।