আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই ও আশপাশের এলাকায়। রবিবার ভোর পর্যন্ত প্রবল বর্ষণ হয় সেখানে। যদিও সকাল নাগাদ বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসে, তবে আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় রেড এলার্ট জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি)।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহন্মুম্বাই পৌর করপোরেশন (বিএমসি) নগরবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে করপোরেশনের হেল্পলাইন ১৯১৬-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিএমসির তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩০০ মিলিমিটারও ছাড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ৩১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ভিখরোলি পশ্চিমের বিল্ডিং প্রপোজাল অফিস এলাকায়। এছাড়া কোলাবা পাম্পিং স্টেশনে ৩০৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং ভিখরোলির ঠাকুর নগর মিউনিসিপ্যাল স্কুল এলাকায় ৩০১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া মালাবার হিল, কোলাবা, মান্দাভি, মেমনওয়াড়া, ভিখরোলি ফায়ার স্টেশন, পাওয়াই, ভান্ডুপ, আন্দেরি, চাকালা, জোগেশ্বরী ও গোরেগাঁওয়ের আরে কলোনিসহ একাধিক এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
শনিবারের টানা বর্ষণে মুম্বাইয়ের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়ে, গাছ উপড়ে যায়, বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
অবিরাম বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী থানে, পালঘর, নবি মুম্বাই ও পুনে অঞ্চলেও। এসব এলাকায় ভূমিধস, জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক বন্ধ এবং প্লাবিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আইএমডি জানিয়েছে, রবিবারও মুম্বাই ও এর আশপাশের এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএমসি। স্থানীয় সময় রবিবার বিকাল ৩টা ২২ মিনিটে প্রায় ৪ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ার এবং সোমবার ভোর ৩টা ৪১ মিনিটে ৩ দশমিক ৫১ মিটার উচ্চতার আরেকটি জোয়ারের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রবিবার সকালে মেট্রো ও বিএসটি বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, উপনগরীয় ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বে চলাচল করছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। এর আগে শনিবার জলমগ্ন রেললাইনের কারণে সেন্ট্রাল ও ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের উপনগরীয় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মেট্রোর ২এ লাইনের পরিষেবাও কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়েছিল।
Reporter Name 























