০৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদ থেকে উবার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় ফেরার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন এমপি মিতু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু সংসদে দৈনন্দিন যাতায়াত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াত ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টায় সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, রাত ৭.০৪ বাজে, অধিবেশন শেষে বাসায় যাচ্ছি। বাসায় যেতে যেতে প্রায় প্রতিদিনই আমার জজ বান্ধবীর কথা মনে পড়ে। বলছিল, জজ হইছি এখন আর লোকাল বাসে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাইতে পারি না। তার ওপর সবার ধারণা- বিরাট বড় জজ কত না জানি টাকা, যা আয় করি যা জমাই বছরে দুবার বাড়ি গেলেই অনেক খানি শেষ হয়ে যায়।

যাতায়াত খরচ নিয়ে ডা. মিতু বলেন, গত ৫ দিনে আমার উবার /পাঠাও খরচ অলমোস্ট ৮ হাজার টাকা। বলা ভালো, আমি গরমের কষ্ট থেকে বাঁচতে প্রিমিয়াম সার্ভিস নেই। কারণ অধিকাংশ কারের এসি ভালো না। প্রতিদিন এক্সট্রা প্রোগ্রাম থাকে ৩/৪টা। অধিকাংশ ফিরিয়ে দিই। এ ছাড়া আত্মীয়ের বাসা, কারও অসুস্থতা সব মিলিয়ে।

পোস্টে তিনি বলেন, সংসদ ভবনের গেটে ঢোকার সময় উবার নিয়ে ঢোকা গেলেও বের হওয়ার সময় উবার ঢুকতে দেয় না। প্রায় এক কিমি রাস্তা (নেটে দেখলাম) হেঁটে বের হতে হয় যদি ঘুরে বের হন। গতকাল আমি এক হাতে ৩টা বই অন্য হাতে ব্যাগ, মোবাইল, কাগজপত্র নিয়ে বের হতে গিয়ে মনে হচ্ছিল রাস্তার মধ্যে বসে পড়ি এত কষ্ট লাগছিল।

তিনি আরও জানান, সংসদের গেটে দাঁড়িয়ে সিএনজি পাই না। তার চেয়েও মজার হলো- লোকজন আমাকে সিএনজি খুঁজতে দেখে এমন ভাবে দেখছে, যেন নতুন কিছু দেখছে। কানে ফিসফাস করছিল। পরে ধুম করে প্রিয় ব্যাটারির গাড়িতে উঠে পড়লাম। সংসদের অনেক নতুন রীতির ভিড়ে বোধহয় এটাও নতুন সংসদ সদস্যরা অধিবেশন শেষে ব্যাটারিরচালিত রিকশা করে বাড়ি ফিরছে।

ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও তুলে ধরেন ডা. মিতু। তিনি বলেন, লিখতে লিখতেই মনে হলো ট্যাক্স ফ্রি গাড়িসহ সংসদ সদস্যদের অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকত। যেগুলো হয়তো আমাদের মতো এমপিদের জন্যই ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো- গত কয়েক যুগেও আমাদের মতো এমপি সংসদে ঢুকেনি। যারা ঢুকেছে তাদের আগে থেকেই ৪/৫টা গাড়ি থাকত। এখনো তাই। এসব সুবিধা বাতিল হওয়ায় ভালো হয়েছে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ ধনী এমপিরা আরও ধনী হতো। তবে আমার মতো যারা আছেন, যেমন- মানসুরা, মারদিয়া আপা, হাসনাত, আতিক ভাই এদের এখন সব খরচ সামলে জীবন যায় যায় অবস্থা। পুরো সংসদে ২-৩ শতাংশ মানুষ হবে যাদের আমাদের মতো দশা। ঘেঁটেঘুটে দেখলাম সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধার কোনো লোন নেই।

পোস্টের একপর্যায়ে ডা. মিতু জানান, যাই হোক এর মধ্যে খুশির খবর হলো- গতরাতেও বসে বসে রেগুলার অধিবেশনের জন্য কমদামি শাড়ি খুঁজেছি অনলাইনে। কারণ সারাদিন ধরে পড়ে থেকে সব জামদানি নষ্ট হচ্ছে। স্ট্যাটাস লিখতে লিখতে বাসায় কলিংবেল। মাশাআল্লাহ দেখি বড় আপা মানে আমার হাজবেন্ডের বোন ৪টা শাড়ি পাঠিয়েছেন। যদিও আমার দামি, কমদামি সব (শাড়ি) বড় আপার দেওয়া। বড় আপা সবসময়ই কীভাবে যেন আমার মনের কথা বুঝে যায়। যখন যা লাগে না চাইতেই হাজির করে। আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল একটা বড় বোনের, আল্লাহ আমাকে আমার হাজবেন্ডের বোন দিয়ে সেটা পূরণ করছে, আলহামদুলিল্লাহ।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, তবে এই টেসলায় যাতায়াতেরও মজা আছে। দূর থেকে মানুষ ডাক দেয় এই মিতু আপু, এই মিতু আপু। আপনি মিতু আপু না? তখন সব কষ্ট মুছে যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

সংসদ থেকে উবার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় ফেরার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন এমপি মিতু

Update Time : ০৬:০৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু সংসদে দৈনন্দিন যাতায়াত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াত ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টায় সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, রাত ৭.০৪ বাজে, অধিবেশন শেষে বাসায় যাচ্ছি। বাসায় যেতে যেতে প্রায় প্রতিদিনই আমার জজ বান্ধবীর কথা মনে পড়ে। বলছিল, জজ হইছি এখন আর লোকাল বাসে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাইতে পারি না। তার ওপর সবার ধারণা- বিরাট বড় জজ কত না জানি টাকা, যা আয় করি যা জমাই বছরে দুবার বাড়ি গেলেই অনেক খানি শেষ হয়ে যায়।

যাতায়াত খরচ নিয়ে ডা. মিতু বলেন, গত ৫ দিনে আমার উবার /পাঠাও খরচ অলমোস্ট ৮ হাজার টাকা। বলা ভালো, আমি গরমের কষ্ট থেকে বাঁচতে প্রিমিয়াম সার্ভিস নেই। কারণ অধিকাংশ কারের এসি ভালো না। প্রতিদিন এক্সট্রা প্রোগ্রাম থাকে ৩/৪টা। অধিকাংশ ফিরিয়ে দিই। এ ছাড়া আত্মীয়ের বাসা, কারও অসুস্থতা সব মিলিয়ে।

পোস্টে তিনি বলেন, সংসদ ভবনের গেটে ঢোকার সময় উবার নিয়ে ঢোকা গেলেও বের হওয়ার সময় উবার ঢুকতে দেয় না। প্রায় এক কিমি রাস্তা (নেটে দেখলাম) হেঁটে বের হতে হয় যদি ঘুরে বের হন। গতকাল আমি এক হাতে ৩টা বই অন্য হাতে ব্যাগ, মোবাইল, কাগজপত্র নিয়ে বের হতে গিয়ে মনে হচ্ছিল রাস্তার মধ্যে বসে পড়ি এত কষ্ট লাগছিল।

তিনি আরও জানান, সংসদের গেটে দাঁড়িয়ে সিএনজি পাই না। তার চেয়েও মজার হলো- লোকজন আমাকে সিএনজি খুঁজতে দেখে এমন ভাবে দেখছে, যেন নতুন কিছু দেখছে। কানে ফিসফাস করছিল। পরে ধুম করে প্রিয় ব্যাটারির গাড়িতে উঠে পড়লাম। সংসদের অনেক নতুন রীতির ভিড়ে বোধহয় এটাও নতুন সংসদ সদস্যরা অধিবেশন শেষে ব্যাটারিরচালিত রিকশা করে বাড়ি ফিরছে।

ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও তুলে ধরেন ডা. মিতু। তিনি বলেন, লিখতে লিখতেই মনে হলো ট্যাক্স ফ্রি গাড়িসহ সংসদ সদস্যদের অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকত। যেগুলো হয়তো আমাদের মতো এমপিদের জন্যই ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো- গত কয়েক যুগেও আমাদের মতো এমপি সংসদে ঢুকেনি। যারা ঢুকেছে তাদের আগে থেকেই ৪/৫টা গাড়ি থাকত। এখনো তাই। এসব সুবিধা বাতিল হওয়ায় ভালো হয়েছে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ ধনী এমপিরা আরও ধনী হতো। তবে আমার মতো যারা আছেন, যেমন- মানসুরা, মারদিয়া আপা, হাসনাত, আতিক ভাই এদের এখন সব খরচ সামলে জীবন যায় যায় অবস্থা। পুরো সংসদে ২-৩ শতাংশ মানুষ হবে যাদের আমাদের মতো দশা। ঘেঁটেঘুটে দেখলাম সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধার কোনো লোন নেই।

পোস্টের একপর্যায়ে ডা. মিতু জানান, যাই হোক এর মধ্যে খুশির খবর হলো- গতরাতেও বসে বসে রেগুলার অধিবেশনের জন্য কমদামি শাড়ি খুঁজেছি অনলাইনে। কারণ সারাদিন ধরে পড়ে থেকে সব জামদানি নষ্ট হচ্ছে। স্ট্যাটাস লিখতে লিখতে বাসায় কলিংবেল। মাশাআল্লাহ দেখি বড় আপা মানে আমার হাজবেন্ডের বোন ৪টা শাড়ি পাঠিয়েছেন। যদিও আমার দামি, কমদামি সব (শাড়ি) বড় আপার দেওয়া। বড় আপা সবসময়ই কীভাবে যেন আমার মনের কথা বুঝে যায়। যখন যা লাগে না চাইতেই হাজির করে। আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল একটা বড় বোনের, আল্লাহ আমাকে আমার হাজবেন্ডের বোন দিয়ে সেটা পূরণ করছে, আলহামদুলিল্লাহ।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, তবে এই টেসলায় যাতায়াতেরও মজা আছে। দূর থেকে মানুষ ডাক দেয় এই মিতু আপু, এই মিতু আপু। আপনি মিতু আপু না? তখন সব কষ্ট মুছে যায়।