বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ১১ জেলে এক সপ্তাহ ধরে শিকলবন্দী থাকার পরে মুক্তিপণ দিয়ে শুক্রবার রাতে বাড়ি ফিরেছেন। গত ৩ মে রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জেন আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী সদস্যরা এই ১১ জেলেকে অপহরণ করে।
অপহরণের দুই দিন পর ৫ মে সন্ধ্যায় বন্দুকযুদ্ধ করে জাহাঙ্গীর বাহিনীর আস্তানা থেকে অপর বনদস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনীর সদস্যরা শিকলবন্দী এসব জেলেকে তাদের কব্জায় নেয়। পরে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্যরা শিকলবন্দী অবস্থায়ই ছিনিয়ে নেয়ার পর ১১ জেলেকে সুন্দরবনের গহীনে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। অবশেষে মুক্তিপণ পেয়ে শরীফ বাহিনী সদস্যরা অপহৃত ১১ জন জেলেকে শুক্রবার রাতে নৌকায় করে সুন্দরবনের ধানসাগর ষ্টেশনের আড়য়াবের নদীর মোহনায় নামিয়ে দিয়ে যায়। এনপর তারা সুন্দরবনের মধ্যে চার কিলোমিটার পায়ে হেটে বাড়িতে পৌছায়। অপহরণের পর বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তাদের মুক্তিপণের দাবিতে বেদম মারপিট করে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে শিকলবন্দী করে রাখে। জিম্মিদশা থেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) শনিবার সকালে এ তথ্য নিশিচত করেছেন।
বনদস্যু শরীফ বাহিনীর হাত থেকে ফিরে আসা অপর জেলেরা হচ্ছেন- শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের ছগির (৩২), রাকিব (২৩) লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা ¯øুইস এলাকার রুবেল (২৫), ও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার দেব চন্দ্র (২৫)।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপহৃত এসব জেলেদের শরণখোলার তিনজন মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ীরাও এসব তথ্য নিশ্চিত করে আরো বলেন, বনদস্যুরা প্রথমে জেলেদের জনপ্রতি ১ লাখ টাকা দাবি করে। পরে দর কষাকষি করে জনপ্রতি ৭০ হাজার মুক্তিপণের টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করার পরে দস্যুরা জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার খবর তার জানা নেই। এ বিষয়ে কোন জেলে, পরিবারের সদস্য বা তাদের মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ীরা কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
Reporter Name 





















