আদালত প্রতিবেদক
ধর্ষণের পর পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়ার মামলায় আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে রায়ে আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে তার পুত্র সন্তানের ভরণ-পোষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একই সঙ্গে আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. এরশাদ আলম জর্জ জানান, আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করে হেফাজতে নেবেন। ওই সম্পত্তি থেকে শিশুর ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবেন। শিশুটির বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণ-পোষণ দিতে হবে। তবে আসামির সম্পত্তি থেকে ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রায় ঘোষণার সময় জাহাঙ্গীরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন ভুক্তভোগী নারীর পূর্ব পরিচিত। ঘটনার ১১ মাস আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে জাহাঙ্গীর তার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জাহাঙ্গীর কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুরের ওই নারীর বাসায় যান।
নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করেন। তখন আশপাশের লোকজনদের ধর্ষণের ঘটনা জানাতে চাইলে আসামি তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন। আসামি বিভিন্ন সময় তার বাসায় এসে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করতে থাকেন।
২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে তার বাসায় এসে তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেন। এর মধ্যে ওই নারী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।আসামিকে বিষয়টি জানালে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কাফরুল থানায় এই মামলা করেন।
২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তার পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে নবজাতক ও ভিকটিমের ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, জাহাঙ্গীর হোসেন ওই নারীর গর্ভজাত নবজাতক পুত্র সন্তানের বাবা।
ওই বছরের ২৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ইউম্যান সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের এসআই মোসা. রেহানা সুলতানা চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
Reporter Name 

























