০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াবাড়িতে তারেক রহমানকে পেয়ে আবেগ আপ্লুত স্বজনরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই দশক পর বাবার জন্মভূমি জিয়াবাড়িতে আসেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৌঁছালে জিয়া পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।অনেকদিন পর তারা তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলেন। এরপর তিনি পুরো বাড়ি ঘুরে দেখেন। এ সময় শুধু জিয়া পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাবার পুরোনো ঘরে প্রবেশ করে ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

তারেক রহমান নিজ বাড়িতে প্রায় ১০ মিনিট সময় কাটান এবং বারান্দায় দাঁড়িয়ে পানি পান করেন। এ সময় তারেক রহমান বলেন, প্রিয় বাগবাড়িবাসী প্রায় দুই যুগ পর নিজের এলাকায়, নিজের গ্রামের বাড়িতে, এই স্কুল-কলেজ মাঠে আজ আবারও আপনাদের সঙ্গে একত্রিত হতে পেরেছি।

আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পেরেছি-এর জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। বাড়ির ভেতরে এখনো জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত কিছু আসবাবপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি খাট, ড্রেসিং টেবিল, একটি সোফা ও কিছুসংখ্যক দৈনন্দিন আসবাব।

এসবের মাধ্যমেই ঘরটির ভেতরে তখনকার জীবনযাপনের ছাপ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। তবে জিয়াউর রহমান যে খাটে ঘুমাতেন, সেই খাটের সঙ্গে থাকা বোতাম লাগানো মশারি এবং জমিদার আমলের কিছু কাচের গ্লাস নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের স্বার্থে অনেক আগেই চট্টগ্রাম জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঐতিহাসিক এসব নিদর্শন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বাড়িটিতে একটি বিশেষ কক্ষ রয়েছে, যা একসময় নিরাপত্তার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতো। ওই কক্ষে মূল্যবান সামগ্রী রাখা আছে। এসব দেখে অনেকটায় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তারেক রহমান।

এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বরে সর্বশেষ পৈতৃক বাড়িতে গিয়েছিলেন।

পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মনসুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে জিয়াউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি। দাদা কামাল উদ্দিন মণ্ডল শখ করে নাতির নাম রাখেন জিয়াউর রহমান কমল। ‘কমল’ নামটি ছিল জিয়াউর রহমানের পারিবারিক ডাকনাম, যা পরিবারের ভেতরেই বেশি ব্যবহৃত হতো।

শৈশব ও কৈশোরের শুরুতে জিয়াউর রহমান বাগবাড়ী গ্রামেই বড় হন। তিনি স্থানীয় বাগবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তবে এসময় তার বাবা মনসুর রহমান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরিসূত্রে পরিবারের সঙ্গে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের করাচিতে চলে যান। এর ফলে দীর্ঘ সময় গ্রাম, আত্মীয়-স্বজন ও শৈশবের পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়াউর রহমান বাগবাড়ীতে এলে দীর্ঘদিন পর গ্রামের মানুষ ও আত্মীয়-স্বজন তাকে সরাসরি দেখার সুযোগ পান। সেসময় গ্রামে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগের সৃষ্টি হয় বলে জানান প্রবীণরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিয়াউর রহমানের পূর্বপুরুষরা ১৮৯৫ সালে বাগবাড়ী গ্রামে একটি একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। প্রায় ১৩০ বছরের পুরোনো এই বাড়িটিই বর্তমানে ‘জিয়া বাড়ি’ নামে পরিচিত। বাড়িটির স্থাপত্য এখনো সেই সময়ের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে বাড়িটিকে দোতলা করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দিন আগে সিজার, নবজাতক রেখে পরীক্ষার হলে মা

জিয়াবাড়িতে তারেক রহমানকে পেয়ে আবেগ আপ্লুত স্বজনরা

Update Time : ০২:৩২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই দশক পর বাবার জন্মভূমি জিয়াবাড়িতে আসেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৌঁছালে জিয়া পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।অনেকদিন পর তারা তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলেন। এরপর তিনি পুরো বাড়ি ঘুরে দেখেন। এ সময় শুধু জিয়া পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাবার পুরোনো ঘরে প্রবেশ করে ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

তারেক রহমান নিজ বাড়িতে প্রায় ১০ মিনিট সময় কাটান এবং বারান্দায় দাঁড়িয়ে পানি পান করেন। এ সময় তারেক রহমান বলেন, প্রিয় বাগবাড়িবাসী প্রায় দুই যুগ পর নিজের এলাকায়, নিজের গ্রামের বাড়িতে, এই স্কুল-কলেজ মাঠে আজ আবারও আপনাদের সঙ্গে একত্রিত হতে পেরেছি।

আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পেরেছি-এর জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। বাড়ির ভেতরে এখনো জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত কিছু আসবাবপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি খাট, ড্রেসিং টেবিল, একটি সোফা ও কিছুসংখ্যক দৈনন্দিন আসবাব।

এসবের মাধ্যমেই ঘরটির ভেতরে তখনকার জীবনযাপনের ছাপ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। তবে জিয়াউর রহমান যে খাটে ঘুমাতেন, সেই খাটের সঙ্গে থাকা বোতাম লাগানো মশারি এবং জমিদার আমলের কিছু কাচের গ্লাস নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের স্বার্থে অনেক আগেই চট্টগ্রাম জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঐতিহাসিক এসব নিদর্শন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বাড়িটিতে একটি বিশেষ কক্ষ রয়েছে, যা একসময় নিরাপত্তার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতো। ওই কক্ষে মূল্যবান সামগ্রী রাখা আছে। এসব দেখে অনেকটায় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তারেক রহমান।

এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বরে সর্বশেষ পৈতৃক বাড়িতে গিয়েছিলেন।

পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মনসুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে জিয়াউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি। দাদা কামাল উদ্দিন মণ্ডল শখ করে নাতির নাম রাখেন জিয়াউর রহমান কমল। ‘কমল’ নামটি ছিল জিয়াউর রহমানের পারিবারিক ডাকনাম, যা পরিবারের ভেতরেই বেশি ব্যবহৃত হতো।

শৈশব ও কৈশোরের শুরুতে জিয়াউর রহমান বাগবাড়ী গ্রামেই বড় হন। তিনি স্থানীয় বাগবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তবে এসময় তার বাবা মনসুর রহমান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরিসূত্রে পরিবারের সঙ্গে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের করাচিতে চলে যান। এর ফলে দীর্ঘ সময় গ্রাম, আত্মীয়-স্বজন ও শৈশবের পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়াউর রহমান বাগবাড়ীতে এলে দীর্ঘদিন পর গ্রামের মানুষ ও আত্মীয়-স্বজন তাকে সরাসরি দেখার সুযোগ পান। সেসময় গ্রামে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগের সৃষ্টি হয় বলে জানান প্রবীণরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিয়াউর রহমানের পূর্বপুরুষরা ১৮৯৫ সালে বাগবাড়ী গ্রামে একটি একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। প্রায় ১৩০ বছরের পুরোনো এই বাড়িটিই বর্তমানে ‘জিয়া বাড়ি’ নামে পরিচিত। বাড়িটির স্থাপত্য এখনো সেই সময়ের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে বাড়িটিকে দোতলা করা হয়।