১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং আগের সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দ্রুত ফেরত আনতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, এই সরকারের অর্থনৈতিক নীতি হলো দেশীয় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। আসন্ন জাতীয় বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমান ঋণের পরিসংখ্যান মূলত আগের সরকারের রেখে যাওয়া দায়ের প্রতিফলন।

ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপের কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ‘ক্যারি-ওভার’ সমস্যায় ভুগছে, যেখানে অনেক কারখানা মালিক শ্রমিকদের বেতন ও ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।

কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আগে যে পর্যায়ে ছিলাম, সেখানে ফিরে যেতে সময় লাগবে। তবে সরকার তা কার্যকরভাবে করতে পারবে।’

বিদেশে পাচার হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার কূটনৈতিক ও পেশাগত উভয় মাধ্যমে কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সম্পদ পুনরুদ্ধারে বিশেষজ্ঞ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ফোকাল পয়েন্ট গঠন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে এই কার্যক্রম সমন্বয় করছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা পিছিয়ে নেই। কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশবাসী এর সুফল দেখতে পাবে।’

বিরোধী দলের সদস্য মো. সাইফুল আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় ব্যক্তি বিশেষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেন।

তিনি বলেন, সরকার ‘পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি’তে বিশ্বাস করে না।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আইন সংশোধনগুলো আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করতে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পুঁজি ফেরাতে সহায়ক হবে।

তিনি সংসদে বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কোনো ব্যক্তি বিশেষের অযৌক্তিক সুবিধার সুযোগ নেই।’

ইসলামী ব্যাংক থেকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যাংকিং সংশোধনীর মাধ্যমে একটি ‘নতুন প্রবেশদ্বার’ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সব শেয়ারহোল্ডার ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর জন্য স্বচ্ছভাবে বিনিয়োগ বা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই টাকা আবার ব্যাংকে জমা হোক। এই সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত।’

অর্থমন্ত্রী শেষে বলেন, সরকার একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে কোনো একক গোষ্ঠী, যেমন এস আলম গ্রুপ রাষ্ট্র বা আমানতকারীদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে বিশেষ সুবিধা পাবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দিন আগে সিজার, নবজাতক রেখে পরীক্ষার হলে মা

ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

Update Time : ০৬:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং আগের সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দ্রুত ফেরত আনতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, এই সরকারের অর্থনৈতিক নীতি হলো দেশীয় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। আসন্ন জাতীয় বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমান ঋণের পরিসংখ্যান মূলত আগের সরকারের রেখে যাওয়া দায়ের প্রতিফলন।

ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপের কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ‘ক্যারি-ওভার’ সমস্যায় ভুগছে, যেখানে অনেক কারখানা মালিক শ্রমিকদের বেতন ও ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।

কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আগে যে পর্যায়ে ছিলাম, সেখানে ফিরে যেতে সময় লাগবে। তবে সরকার তা কার্যকরভাবে করতে পারবে।’

বিদেশে পাচার হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার কূটনৈতিক ও পেশাগত উভয় মাধ্যমে কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সম্পদ পুনরুদ্ধারে বিশেষজ্ঞ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ফোকাল পয়েন্ট গঠন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে এই কার্যক্রম সমন্বয় করছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা পিছিয়ে নেই। কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশবাসী এর সুফল দেখতে পাবে।’

বিরোধী দলের সদস্য মো. সাইফুল আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় ব্যক্তি বিশেষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেন।

তিনি বলেন, সরকার ‘পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি’তে বিশ্বাস করে না।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আইন সংশোধনগুলো আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করতে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পুঁজি ফেরাতে সহায়ক হবে।

তিনি সংসদে বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কোনো ব্যক্তি বিশেষের অযৌক্তিক সুবিধার সুযোগ নেই।’

ইসলামী ব্যাংক থেকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যাংকিং সংশোধনীর মাধ্যমে একটি ‘নতুন প্রবেশদ্বার’ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সব শেয়ারহোল্ডার ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর জন্য স্বচ্ছভাবে বিনিয়োগ বা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই টাকা আবার ব্যাংকে জমা হোক। এই সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত।’

অর্থমন্ত্রী শেষে বলেন, সরকার একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে কোনো একক গোষ্ঠী, যেমন এস আলম গ্রুপ রাষ্ট্র বা আমানতকারীদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে বিশেষ সুবিধা পাবে না।