০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিন পেলেন সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ Time View

আদালত প্রতিবেদক

‎জুলাই আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নেত্রী শিল্পী বেগমকে আজ মঙ্গলবার বিকালে দেড় বছরের মেয়ে শিশুসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

‎‎ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন।

‎‎এ নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর রাতে ওই নারীর জামিন মঞ্জুর করেছেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান।

‎‎আজ বিকেলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার আদেশ শুনে আদালতেই কাঁদতে কাঁদতে শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমি অসুস্থ, কিভাবে বাচ্চাকে নিয়ে জেলখানায় থাকবো। আমার বাচ্চাটা মারা যাবে।’

‎শিল্পী বলেন, ‘সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে। আমার বাচ্চা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমি আমার সাথে নিবো না।’

‎‎এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁওয়ের তেজকুনীপাড়ার রেলওয়ে কলোনী এলাকা থেকে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‎আজ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই শেখ নজরুল ইসলাম।

‎আবেদনে বলা হয়, এ আসামির মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণাদী পাওয়া গিয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনী ষ্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার বিশেষ প্রয়োজন।

‎আদালতে আসা শিল্পীর স্বামী, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা জানান, গত মার্চ মাসের ৪ তারিখে আদ দ্বীন হাসপাতাল শিল্পীর মেয়ে জন্ম নেয়। এরপর আবার বাথরুমে পরে বাম হাত ভেঙ্গে গেছে শিল্পীর। তাই বাচ্চাকে ঠিকমত কোলেও নিতে পারে না, একা সামলাতে পারেন না।

‎শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন, ‘তিন ছেলের পর আমার এ মেয়েটার জন্ম। তাকেসহ আমার স্ত্রীকে কারাগারে যেতে হচ্ছে। আমার সাড়ে ৪ বছরের ছোট ছেলের হাতে হাড় বাড়ছে। শনিবার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার হাতে অপারেশন। আর তার মা আজ কারাগারে। দুই ছেলেও মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে। কি করবো বুঝতে পারছি না।’

‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ছাত্র মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫ টার দিকে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমন করেন। পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭ টার দিকে মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাত ১২০/১৩০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালান। এতে তার বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দিন আগে সিজার, নবজাতক রেখে পরীক্ষার হলে মা

জামিন পেলেন সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী

Update Time : ০৯:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আদালত প্রতিবেদক

‎জুলাই আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নেত্রী শিল্পী বেগমকে আজ মঙ্গলবার বিকালে দেড় বছরের মেয়ে শিশুসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

‎‎ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন।

‎‎এ নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর রাতে ওই নারীর জামিন মঞ্জুর করেছেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান।

‎‎আজ বিকেলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার আদেশ শুনে আদালতেই কাঁদতে কাঁদতে শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমি অসুস্থ, কিভাবে বাচ্চাকে নিয়ে জেলখানায় থাকবো। আমার বাচ্চাটা মারা যাবে।’

‎শিল্পী বলেন, ‘সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে। আমার বাচ্চা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমি আমার সাথে নিবো না।’

‎‎এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁওয়ের তেজকুনীপাড়ার রেলওয়ে কলোনী এলাকা থেকে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‎আজ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই শেখ নজরুল ইসলাম।

‎আবেদনে বলা হয়, এ আসামির মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণাদী পাওয়া গিয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনী ষ্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার বিশেষ প্রয়োজন।

‎আদালতে আসা শিল্পীর স্বামী, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা জানান, গত মার্চ মাসের ৪ তারিখে আদ দ্বীন হাসপাতাল শিল্পীর মেয়ে জন্ম নেয়। এরপর আবার বাথরুমে পরে বাম হাত ভেঙ্গে গেছে শিল্পীর। তাই বাচ্চাকে ঠিকমত কোলেও নিতে পারে না, একা সামলাতে পারেন না।

‎শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন, ‘তিন ছেলের পর আমার এ মেয়েটার জন্ম। তাকেসহ আমার স্ত্রীকে কারাগারে যেতে হচ্ছে। আমার সাড়ে ৪ বছরের ছোট ছেলের হাতে হাড় বাড়ছে। শনিবার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার হাতে অপারেশন। আর তার মা আজ কারাগারে। দুই ছেলেও মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে। কি করবো বুঝতে পারছি না।’

‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ছাত্র মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫ টার দিকে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমন করেন। পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭ টার দিকে মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাত ১২০/১৩০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালান। এতে তার বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।