১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় মাজেদুল তিন দিনের রিমান্ডে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩ Time View

আদালত প্রতিবেদক

‎ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

‎‎মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

‎‎রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি একজন অস্ত্র বিক্রেতা দোকানের মালিক। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার দোকানে নবায়নকৃত ছিল। পরে আর নবায়ন করেনি। লাইসেন্স নবায়ন না করেই ইসলাম উদ্দিন আহমেদ এন্ড সন্স দোকান থেকে এই অস্ত্রটি ক্রয় করে নিয়ে যায়। এমতবস্থায় এই অস্ত্রটি মো. মাজেদুল হক হেলালের কাছ থেকে আসামিদের হাতে কিভাবে গেল সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের নিমিত্তে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন।

‎‎রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ রিমান্ডেন পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘এটা একটা আলোচিত ঘটনা এবং মামলা। যার মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশে আজও আলোচনা, আন্দোলন চলমান। হামিদুল হক আর্মস এন্ড কোং এর মালিক এ আসামি। হাদি হত্যায় এ অস্ত্র কিভাবে ফয়সাল করিমের কাছে গেল তা জানার জন্য তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

‎‎হেলালের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। কিছু বলতে চান কি না আদালতের প্রশ্নে হেলাল বলেন,‘না।’ ‎পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

‎‎গত ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার থানার এলাকায় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‎মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটর সাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।

‎‎এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এটা হত্যা মামলায় রুপান্তর নেয়।

‎‎তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেয়া অভিযোগ পত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দিন আগে সিজার, নবজাতক রেখে পরীক্ষার হলে মা

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় মাজেদুল তিন দিনের রিমান্ডে

Update Time : ০৫:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আদালত প্রতিবেদক

‎ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

‎‎মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

‎‎রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি একজন অস্ত্র বিক্রেতা দোকানের মালিক। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার দোকানে নবায়নকৃত ছিল। পরে আর নবায়ন করেনি। লাইসেন্স নবায়ন না করেই ইসলাম উদ্দিন আহমেদ এন্ড সন্স দোকান থেকে এই অস্ত্রটি ক্রয় করে নিয়ে যায়। এমতবস্থায় এই অস্ত্রটি মো. মাজেদুল হক হেলালের কাছ থেকে আসামিদের হাতে কিভাবে গেল সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের নিমিত্তে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন।

‎‎রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ রিমান্ডেন পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘এটা একটা আলোচিত ঘটনা এবং মামলা। যার মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশে আজও আলোচনা, আন্দোলন চলমান। হামিদুল হক আর্মস এন্ড কোং এর মালিক এ আসামি। হাদি হত্যায় এ অস্ত্র কিভাবে ফয়সাল করিমের কাছে গেল তা জানার জন্য তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

‎‎হেলালের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। কিছু বলতে চান কি না আদালতের প্রশ্নে হেলাল বলেন,‘না।’ ‎পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

‎‎গত ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার থানার এলাকায় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‎মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটর সাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।

‎‎এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এটা হত্যা মামলায় রুপান্তর নেয়।

‎‎তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেয়া অভিযোগ পত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।