০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেড় মাসের শিশুকে নিয়েই কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০০ Time View

সবুজদিন ডেস্ক

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তান থাকা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুপুর ২টার দিকে শিল্পী বেগমকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয় আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামির ১ মাস ১৬ দিনের একটি সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় যেকোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ ঘোষণার পর বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী বেগম। এ সময় তার কোলে দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানকে তুলে দেওয়া হয়। আদালতের বারান্দার বেঞ্চে বসেই তিনি সন্তানকে দুধ খাওয়ান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শিশুসন্তানসহ তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে। পরে শিশুকে কোলে নিয়েই তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুলকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর সেখানেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আক্রমণের শিকার হন তিনি।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামি শিল্পীর নির্দেশে ১২০-১৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় হামলা চালায়।

হামলায় পাঁচ লাখ টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ভাঙচুর করা হয় এবং তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রের পিতা মো. সোহেল রানাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

দেড় মাসের শিশুকে নিয়েই কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী

Update Time : ০৫:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তান থাকা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুপুর ২টার দিকে শিল্পী বেগমকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয় আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামির ১ মাস ১৬ দিনের একটি সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় যেকোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ ঘোষণার পর বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী বেগম। এ সময় তার কোলে দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানকে তুলে দেওয়া হয়। আদালতের বারান্দার বেঞ্চে বসেই তিনি সন্তানকে দুধ খাওয়ান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শিশুসন্তানসহ তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে। পরে শিশুকে কোলে নিয়েই তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুলকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন। চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর সেখানেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আক্রমণের শিকার হন তিনি।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামি শিল্পীর নির্দেশে ১২০-১৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় হামলা চালায়।

হামলায় পাঁচ লাখ টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ভাঙচুর করা হয় এবং তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রের পিতা মো. সোহেল রানাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।