০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপদ ও আনন্দমুখর শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে কাজ করছি : ববি হাজ্জাজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ১১ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আনন্দমুখর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা শুধু পাঠদান নয়, বরং একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সংযোজন, খেলাধুলা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি যুগোপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহর, গ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঠ অনুধাবন, শ্রবণ দক্ষতা, কথোপকথন, লেখা এবং ভাষাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ নতুনভাবে কাজ করছে। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়েও একটি সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল এডুকেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে প্রযুক্তিনির্ভর। যেখানে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, স্মার্ট অ্যাসেসমেন্ট, স্কুল ম্যানেজমেন্ট, শিক্ষক উপস্থিতি, লেসন প্ল্যান এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ সবকিছু একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি)-৫ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পটির বিভিন্ন কম্পোনেন্ট, বাস্তবায়ন কৌশল, মনিটরিং ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোানা করেন।

উল্লেখ্য, প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে – সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প, বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচিত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলায় মাঠ উন্নয়ন প্রকল্প, নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ আকর্ষণীয়ভাবে সজ্জিতকরণ প্রকল্প, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল প্রকল্প (২য় পর্যায়), নেক্সটজেন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম, পার্বত্য জেলা গুলোর বিদুৎবিহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎতায়ন প্রকল্প, ঢাকা মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, সারাদেশের সব পিটিআই এর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং ইউনিয়ন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান এনডিসি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ ও আনন্দমুখর শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে কাজ করছি : ববি হাজ্জাজ

Update Time : ০৩:০৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আনন্দমুখর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা শুধু পাঠদান নয়, বরং একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সংযোজন, খেলাধুলা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি যুগোপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহর, গ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঠ অনুধাবন, শ্রবণ দক্ষতা, কথোপকথন, লেখা এবং ভাষাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ নতুনভাবে কাজ করছে। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়েও একটি সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল এডুকেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে প্রযুক্তিনির্ভর। যেখানে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, স্মার্ট অ্যাসেসমেন্ট, স্কুল ম্যানেজমেন্ট, শিক্ষক উপস্থিতি, লেসন প্ল্যান এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ সবকিছু একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি)-৫ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পটির বিভিন্ন কম্পোনেন্ট, বাস্তবায়ন কৌশল, মনিটরিং ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোানা করেন।

উল্লেখ্য, প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে – সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প, বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচিত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলায় মাঠ উন্নয়ন প্রকল্প, নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ আকর্ষণীয়ভাবে সজ্জিতকরণ প্রকল্প, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল প্রকল্প (২য় পর্যায়), নেক্সটজেন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম, পার্বত্য জেলা গুলোর বিদুৎবিহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎতায়ন প্রকল্প, ঢাকা মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, সারাদেশের সব পিটিআই এর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং ইউনিয়ন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান এনডিসি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।