০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৯ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে। একইসঙ্গে ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)-এর চেয়ারম্যান ও আরাকান আর্মির প্রধান ত্বান ম্রাত নাইংও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এটি প্রথমবারের মতো আরাকান সেনার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য অভিনন্দনের বার্তা।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে তার বার্তায় ঢাকা ও নেপিডোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে ইউএলএ চেয়ারম্যান ত্বান ম্রাত নাইং লিখেছেন, বাংলাদেশের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিদ্যমান সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও আরাকানের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি নতুন পথ তৈরি করার সুযোগ এখন খুলে গেছে।
এই অভিনন্দন বার্তাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের নতুন সরকার মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি ও ইউএলএ’র সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং সহযোগিতার পথে এগোচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার এই ইস্যুতে উভয় পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মিয়ানমার ও আরাকান আর্মি থেকে আসা এই বার্তাগুলো এক নজিরবিহীন ঘটনা। এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফল। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে।’
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে তাদের পৈতৃক ভিটায় ফিরে যাওয়ার অধিকারের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। গত বছরের আগস্টে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত বহু-অংশীজন সংলাপ এবং ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনেও তারা একই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রোহিঙ্গাদের নিজস্ব মতামত গ্রহণ ও তাদের ভিটায় ফিরে যাওয়ার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি

Update Time : ০৩:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে। একইসঙ্গে ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)-এর চেয়ারম্যান ও আরাকান আর্মির প্রধান ত্বান ম্রাত নাইংও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এটি প্রথমবারের মতো আরাকান সেনার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য অভিনন্দনের বার্তা।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে তার বার্তায় ঢাকা ও নেপিডোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে ইউএলএ চেয়ারম্যান ত্বান ম্রাত নাইং লিখেছেন, বাংলাদেশের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিদ্যমান সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও আরাকানের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি নতুন পথ তৈরি করার সুযোগ এখন খুলে গেছে।
এই অভিনন্দন বার্তাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের নতুন সরকার মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি ও ইউএলএ’র সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং সহযোগিতার পথে এগোচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার এই ইস্যুতে উভয় পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মিয়ানমার ও আরাকান আর্মি থেকে আসা এই বার্তাগুলো এক নজিরবিহীন ঘটনা। এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফল। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে।’
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে তাদের পৈতৃক ভিটায় ফিরে যাওয়ার অধিকারের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। গত বছরের আগস্টে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত বহু-অংশীজন সংলাপ এবং ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনেও তারা একই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রোহিঙ্গাদের নিজস্ব মতামত গ্রহণ ও তাদের ভিটায় ফিরে যাওয়ার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছে।