০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছার হাড়িয়া পাখির কলকাকলিতে মুখর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৭ Time View

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছার হাড়িয়া গ্রাম এখন নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির ধ্বনিতে মুখর। গাছে গাছে পাখির বিচরণ ও কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।

উপজেলার লতা ইউনিয়নটি জলাভূমি শ্রেণীর জমি বেশী। ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামে জলাভূমি, খাল ও বিলে ভরা। তাছাড়া পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। জলাভূমির লবনাক্ত মাটি ও পানিতে সুন্দরবনের বাইন, কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির জন্মে। এসব গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রায় নিয়েছে, বাসা তৈরি করেছে।

পাখিদের কলতান আর খুনসুটি দেখলে যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমী মন আনন্দে নেচে উঠবে। জলাশয়ের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ডানা মেলে পাখিদের উড়ে বেড়ানো আর খাবার সংগ্রহের দৃশ্য যেন মুগ্ধ করে দেয় দর্শনার্থীদের। দূর থেকে ভেসে আসে পাখিদের কিচির-মিচির শব্দ।

হাড়িয়া গ্রামের নারান রায়ের বাড়ির আঙিনায় থাকা সুন্দরবনের বাইন গাছে পানকৌড়ি, বক, হাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া পাশের রশিদ মিয়ার বাড়ির তেঁতুল, নারকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছেও পাখিদের নিরাপদ অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের অবাধ বিচরণে এলাকাটি যেন এক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ভোর হলে পাখিগুলো খাদ্যের সন্ধানে আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয়ের দিকে উড়ে যায়। দিনশেষে আবার দলবদ্ধভাবে নিজেদের নিরাপদ আবাসস্থলে ফিরে আসে। পাখিদের এই নিয়মিত আনাগোনা এলাকাবাসীর কাছে এক পরিচিত ও আনন্দদায়ক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

তারা আরও জানান, এলাকায় পাখি শিকার, হত্যা কিংবা ধরার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ফলে পাখিগুলো এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারছে এবং নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।

বর্তমানে গ্রীষ্মকাল হওয়ায় উপজেলার অন্যান্য এলাকায় পাখির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও হাড়িয়া গ্রামে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাখির বিচরণ রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই পাখিদের কলতানে মুখর থাকে পুরো গ্রাম।

শীত মৌসুমে এ এলাকায় পরিযয়ী পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তখন সরালি হাঁস, চখাচখি, বালিহাঁস, সুচিপুচ্ছ হাঁস, গাঙচিল, জলপিপি ও কাদাখোঁচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আগমন ঘটে। শীতকালে পুরো এলাকা যেন পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ও বিচরণভূমিতে পরিণত হয়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবি’র সভাপতি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন, পাখি সংরক্ষণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে পাখির বাসা স্থাপন করা হয়েছে। আমরা চাই, মানুষের পাশাপাশি পাখিরাও এ অঞ্চলে নিরাপদ আবাসস্থল পেয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকুক।

তিনি আরও বলেন, পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আদাবরে ছিনতাইকারীদের কোপে ওসি ও এসআই আহত

পাইকগাছার হাড়িয়া পাখির কলকাকলিতে মুখর

Update Time : ০১:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছার হাড়িয়া গ্রাম এখন নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির ধ্বনিতে মুখর। গাছে গাছে পাখির বিচরণ ও কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।

উপজেলার লতা ইউনিয়নটি জলাভূমি শ্রেণীর জমি বেশী। ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামে জলাভূমি, খাল ও বিলে ভরা। তাছাড়া পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। জলাভূমির লবনাক্ত মাটি ও পানিতে সুন্দরবনের বাইন, কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির জন্মে। এসব গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রায় নিয়েছে, বাসা তৈরি করেছে।

পাখিদের কলতান আর খুনসুটি দেখলে যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমী মন আনন্দে নেচে উঠবে। জলাশয়ের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ডানা মেলে পাখিদের উড়ে বেড়ানো আর খাবার সংগ্রহের দৃশ্য যেন মুগ্ধ করে দেয় দর্শনার্থীদের। দূর থেকে ভেসে আসে পাখিদের কিচির-মিচির শব্দ।

হাড়িয়া গ্রামের নারান রায়ের বাড়ির আঙিনায় থাকা সুন্দরবনের বাইন গাছে পানকৌড়ি, বক, হাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া পাশের রশিদ মিয়ার বাড়ির তেঁতুল, নারকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছেও পাখিদের নিরাপদ অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের অবাধ বিচরণে এলাকাটি যেন এক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ভোর হলে পাখিগুলো খাদ্যের সন্ধানে আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয়ের দিকে উড়ে যায়। দিনশেষে আবার দলবদ্ধভাবে নিজেদের নিরাপদ আবাসস্থলে ফিরে আসে। পাখিদের এই নিয়মিত আনাগোনা এলাকাবাসীর কাছে এক পরিচিত ও আনন্দদায়ক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

তারা আরও জানান, এলাকায় পাখি শিকার, হত্যা কিংবা ধরার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ফলে পাখিগুলো এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারছে এবং নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।

বর্তমানে গ্রীষ্মকাল হওয়ায় উপজেলার অন্যান্য এলাকায় পাখির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও হাড়িয়া গ্রামে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাখির বিচরণ রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই পাখিদের কলতানে মুখর থাকে পুরো গ্রাম।

শীত মৌসুমে এ এলাকায় পরিযয়ী পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তখন সরালি হাঁস, চখাচখি, বালিহাঁস, সুচিপুচ্ছ হাঁস, গাঙচিল, জলপিপি ও কাদাখোঁচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আগমন ঘটে। শীতকালে পুরো এলাকা যেন পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ও বিচরণভূমিতে পরিণত হয়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবি’র সভাপতি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন, পাখি সংরক্ষণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে পাখির বাসা স্থাপন করা হয়েছে। আমরা চাই, মানুষের পাশাপাশি পাখিরাও এ অঞ্চলে নিরাপদ আবাসস্থল পেয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকুক।

তিনি আরও বলেন, পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।