০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বস্ত্র খাত পুনরুজ্জীবনে গভর্নরকে বিটিএমএ’র ১০ দফা প্রস্তাব

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১০ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

দেশে তৈরি পোশাক খাতের প্রধান ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ এবং রপ্তানিমুখী প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, তীব্র গ্যাস-জ্বালানি সংকট ও তারল্য ঘাটতির ধাক্কা থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি নীতি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বুধবার বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বস্ত্র খাতের টেকসই উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনে ১০ দফা দাবি পেশ করেন।

চিঠিতে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি ও ইউটিলিটি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং কার্যকর চলতি মূলধনের ঘাটতির কারণে দেশের অধিকাংশ টেক্সটাইল মিল বর্তমানে তীব্র আর্থিক চাপে পরিচালিত হচ্ছে। উৎপাদন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা অবস্থাতেও উদ্যোক্তাদের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও সুদ, ইউটিলিটি বিল এবং অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় বহন করতে হওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মূলধন কমে গেছে। এর ফলে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক কারখানা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে ।

বিটিএমএ সভাপতি জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে শুধু উদ্যোক্তাই নয়, ব্যাংকিং খাতও অনাদায়ী ঋণ বৃদ্ধির ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। বন্ধ ও আংশিক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সম্প্রতি ঘোষিত বিআরপিডি-১ সার্কুলার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের প্রয়োজন। এজন্য রপ্তানিমুখী স্পিনিং, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যাংক ঋণের কার্যকর সুদের হার পুনরায় ৯ শতাংশ পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে চলমান কার্যক্রমজনিত জটিলতার কারণে ব্যবসায়ী গ্রাহকদের এলসি, বিল নিষ্পত্তি, আমদানি-রপ্তানি এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর নীতিগত হস্তক্ষেপ করা সহ ১০টি দফা প্রস্তাব জানানো হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম

বস্ত্র খাত পুনরুজ্জীবনে গভর্নরকে বিটিএমএ’র ১০ দফা প্রস্তাব

Update Time : ১১:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

দেশে তৈরি পোশাক খাতের প্রধান ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ এবং রপ্তানিমুখী প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, তীব্র গ্যাস-জ্বালানি সংকট ও তারল্য ঘাটতির ধাক্কা থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি নীতি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বুধবার বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বস্ত্র খাতের টেকসই উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনে ১০ দফা দাবি পেশ করেন।

চিঠিতে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি ও ইউটিলিটি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং কার্যকর চলতি মূলধনের ঘাটতির কারণে দেশের অধিকাংশ টেক্সটাইল মিল বর্তমানে তীব্র আর্থিক চাপে পরিচালিত হচ্ছে। উৎপাদন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা অবস্থাতেও উদ্যোক্তাদের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও সুদ, ইউটিলিটি বিল এবং অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় বহন করতে হওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মূলধন কমে গেছে। এর ফলে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক কারখানা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে ।

বিটিএমএ সভাপতি জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে শুধু উদ্যোক্তাই নয়, ব্যাংকিং খাতও অনাদায়ী ঋণ বৃদ্ধির ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। বন্ধ ও আংশিক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সম্প্রতি ঘোষিত বিআরপিডি-১ সার্কুলার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের প্রয়োজন। এজন্য রপ্তানিমুখী স্পিনিং, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যাংক ঋণের কার্যকর সুদের হার পুনরায় ৯ শতাংশ পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে চলমান কার্যক্রমজনিত জটিলতার কারণে ব্যবসায়ী গ্রাহকদের এলসি, বিল নিষ্পত্তি, আমদানি-রপ্তানি এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর নীতিগত হস্তক্ষেপ করা সহ ১০টি দফা প্রস্তাব জানানো হয়।