০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোদে বেরিয়ে নাকাল, শারীরিক অস্বস্তি ঠেকাতে যখন খাবেন টকদই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২২ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক,

বিকালে ঝড়বৃষ্টি হলেও দুপুরে কাঠফাটা রোদ। গ্রীষ্মের দিনগুলোতে গরম আরও বাড়ছে। কিন্তু এখনই বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কাঠফাটা রোদে। অনেকেই অত্যধিক গরম সহ্য করতে না পেরে জ্বরে পড়ছেন। কমছে না শারীরিক অস্বস্তি। এ অবস্থায় শরীরকে ভালো রাখতে হলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন টকদই। যদিও সারাবছরই টকদই খাওয়া ভালো, তবে গরমে এ খাবারের চাহিদা একটু বেশিই।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ থেকে চিকিৎসক— সবাই এই মৌসুমে টকদই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গরমে দই খেলে যা উপকারিতা মিলবে এবং দিনের কোন সময়ে খেলে উপকার বেশি, সে বিষয়ে রইল টিপস।
১. পুষ্টিগুণে ভরপুর টকদই
আপনার শরীর সুস্থ রাখতে টকদইয়ের বিকল্প নেই। প্রোটিন, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লাবিন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, সেলেনিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে টকদইয়ে। সর্বোপরি টকদই হলো— প্রোবায়োটিক খাবার। এটি অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বজায় রাখতে এবং রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
২. গরমে টকদই কেন?
গরমে টকদই আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখবে। এতে থাকা জলীয় উপাদান এবং খনিজপদার্থ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া গরমে একটু কাজকর্ম করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেই ক্লান্তি-দুর্বলতা কাটাতেও সাহায্য করে টকদই। এতে আপনার শরীরে এনার্জি এনে দেয় টকদই।
৩. কোন সময় টকদই খাবেন
দই সহজপাচ্য খাবার। দিনের যে কোনো সময়ে খাওয়া যায়। ব্রেকফাস্টে কিংবা বেলায় স্ন্যাকস হিসেবে দই খেতে পারেন। আবার লাঞ্চের পরও দই খাওয়া যায়। দই দিয়ে লস্যি, ঘোল, রায়তা, কার্ড রাইস ইত্যাদি বানিয়ে খেতে পারেন। ঠান্ডা লাগার ধাত না থাকলে সন্ধ্যাবেলাতেও দই খাওয়া যায়।
৪. ওজন কমাতে টকদই
গরমে দই খেলে ওজন কমাতে পারেন। দইয়ে প্রোটিন রয়েছে, যা দীর্ঘক্ষণ পেটকে ভর্তি রাখে। এর পাশাপাশি কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয় দই। এর জেরেও ওবেসিটি, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা ধারে কাছে ঘেঁষে না।
৫. পেটের সমস্যা দূরে রাখে দই
প্রোবায়োটিক থাকায় টকদই পেটের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। এ খাবার হজমে সহায়তা করে। টকদইয়ে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান পেটের সমস্যা দূরে রাখে। গরমে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা প্রতিরোধ করে। এমনকি লিভারের স্বাস্থ্যও বজায় রাখতে টকদই।

৬. ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি রোধ
অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে উপযোগী টকদই প্রয়োজন। আর অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় থাকলে একাধিক রোগের ঝুঁকি নিজে থেকেই কমে যায়। এমনকি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যও উন্নত হয়। কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। সর্দি-কাশির সমস্যাও দূরে করে। ক্যালশিয়াম থাকায় হাড়ের সমস্যাও ধারে ঘেঁষে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

রোদে বেরিয়ে নাকাল, শারীরিক অস্বস্তি ঠেকাতে যখন খাবেন টকদই

Update Time : ০৫:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক,

বিকালে ঝড়বৃষ্টি হলেও দুপুরে কাঠফাটা রোদ। গ্রীষ্মের দিনগুলোতে গরম আরও বাড়ছে। কিন্তু এখনই বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কাঠফাটা রোদে। অনেকেই অত্যধিক গরম সহ্য করতে না পেরে জ্বরে পড়ছেন। কমছে না শারীরিক অস্বস্তি। এ অবস্থায় শরীরকে ভালো রাখতে হলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন টকদই। যদিও সারাবছরই টকদই খাওয়া ভালো, তবে গরমে এ খাবারের চাহিদা একটু বেশিই।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ থেকে চিকিৎসক— সবাই এই মৌসুমে টকদই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গরমে দই খেলে যা উপকারিতা মিলবে এবং দিনের কোন সময়ে খেলে উপকার বেশি, সে বিষয়ে রইল টিপস।
১. পুষ্টিগুণে ভরপুর টকদই
আপনার শরীর সুস্থ রাখতে টকদইয়ের বিকল্প নেই। প্রোটিন, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লাবিন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, সেলেনিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে টকদইয়ে। সর্বোপরি টকদই হলো— প্রোবায়োটিক খাবার। এটি অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বজায় রাখতে এবং রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
২. গরমে টকদই কেন?
গরমে টকদই আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখবে। এতে থাকা জলীয় উপাদান এবং খনিজপদার্থ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া গরমে একটু কাজকর্ম করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেই ক্লান্তি-দুর্বলতা কাটাতেও সাহায্য করে টকদই। এতে আপনার শরীরে এনার্জি এনে দেয় টকদই।
৩. কোন সময় টকদই খাবেন
দই সহজপাচ্য খাবার। দিনের যে কোনো সময়ে খাওয়া যায়। ব্রেকফাস্টে কিংবা বেলায় স্ন্যাকস হিসেবে দই খেতে পারেন। আবার লাঞ্চের পরও দই খাওয়া যায়। দই দিয়ে লস্যি, ঘোল, রায়তা, কার্ড রাইস ইত্যাদি বানিয়ে খেতে পারেন। ঠান্ডা লাগার ধাত না থাকলে সন্ধ্যাবেলাতেও দই খাওয়া যায়।
৪. ওজন কমাতে টকদই
গরমে দই খেলে ওজন কমাতে পারেন। দইয়ে প্রোটিন রয়েছে, যা দীর্ঘক্ষণ পেটকে ভর্তি রাখে। এর পাশাপাশি কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয় দই। এর জেরেও ওবেসিটি, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা ধারে কাছে ঘেঁষে না।
৫. পেটের সমস্যা দূরে রাখে দই
প্রোবায়োটিক থাকায় টকদই পেটের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। এ খাবার হজমে সহায়তা করে। টকদইয়ে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান পেটের সমস্যা দূরে রাখে। গরমে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা প্রতিরোধ করে। এমনকি লিভারের স্বাস্থ্যও বজায় রাখতে টকদই।

৬. ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি রোধ
অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে উপযোগী টকদই প্রয়োজন। আর অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় থাকলে একাধিক রোগের ঝুঁকি নিজে থেকেই কমে যায়। এমনকি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যও উন্নত হয়। কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। সর্দি-কাশির সমস্যাও দূরে করে। ক্যালশিয়াম থাকায় হাড়ের সমস্যাও ধারে ঘেঁষে না।