০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ বাংলাদেশি যুবক নিহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল রাজধানী রিয়াদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ দেশটির আল-হায়াত মেডিকেল হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে।

নিহত যুবকের নাম মো. রনি মিয়া (২৮)। তিনি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মরদেহ দেশে আনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন করেছেন নিহতের বড় ভাই মো. মনিরুজ্জামান।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রনি গ্রামের বাড়িতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতো, পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতো। উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারি কাজে সৌদি আরবে যায়। তবে যাওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় আবারও একই কাজে সৌদি আরবে যায় রনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ফের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠাতে প্রথম দফায় ৫ থেকে ছয় ৬ টাকা খরচ হয় পরিবারের। কিন্তু দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসায় রনি কোনো টাকা পাঠাতে পারেনি। পরে আবার সৌদি যাওয়ার জন্য আরও প্রায় ৪ লাখ টাকা জোগাড় করে দেওয়া হয়।

বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার জন্য রনিকে যে কোম্পানি সৌদিতে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের সুপারভাইজার এবং সৌদি থেকে মরদেহ হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা মো. আফতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। পরিবারের ভাষ্য, প্রিয়জনের মরদেহের জন্য অপেক্ষার চেয়ে কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না।

নিহতের বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্টে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমরা তাকে জীবিত ফিরে পাব না, অন্তত তার মরদেহ যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি, এটাই আমাদের শেষ চাওয়া।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. রকিব বাদশা বলেন, রনির মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান শেষবারের মতো মুখ দেখতে অপেক্ষা করছেন।

শেরপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সৌদি প্রবাসী রনির মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ না খেলা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ব্লান্ডার : সাকিব

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ বাংলাদেশি যুবক নিহত

Update Time : ০৬:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল রাজধানী রিয়াদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ দেশটির আল-হায়াত মেডিকেল হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে।

নিহত যুবকের নাম মো. রনি মিয়া (২৮)। তিনি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মরদেহ দেশে আনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন করেছেন নিহতের বড় ভাই মো. মনিরুজ্জামান।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের বড় ভাই প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রনি গ্রামের বাড়িতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতো, পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতো। উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারি কাজে সৌদি আরবে যায়। তবে যাওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রমিক ভিসায় আবারও একই কাজে সৌদি আরবে যায় রনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ফের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠাতে প্রথম দফায় ৫ থেকে ছয় ৬ টাকা খরচ হয় পরিবারের। কিন্তু দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসায় রনি কোনো টাকা পাঠাতে পারেনি। পরে আবার সৌদি যাওয়ার জন্য আরও প্রায় ৪ লাখ টাকা জোগাড় করে দেওয়া হয়।

বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার জন্য রনিকে যে কোম্পানি সৌদিতে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের সুপারভাইজার এবং সৌদি থেকে মরদেহ হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা মো. আফতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। পরিবারের ভাষ্য, প্রিয়জনের মরদেহের জন্য অপেক্ষার চেয়ে কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না।

নিহতের বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্টে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমরা তাকে জীবিত ফিরে পাব না, অন্তত তার মরদেহ যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি, এটাই আমাদের শেষ চাওয়া।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. রকিব বাদশা বলেন, রনির মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান শেষবারের মতো মুখ দেখতে অপেক্ষা করছেন।

শেরপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. লেহাজ উদ্দিন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সৌদি প্রবাসী রনির মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।