০৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্গঠনের গতিতে হতবাক ইসরায়েল-আমেরিকা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি পুনরুদ্ধারের অভাবনীয় গতি দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে পড়েছেন ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর তেহরান যেভাবে দ্রুত গতিতে নিজেদের সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন করেছে, তা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের গভীরভাবে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে ইরান বেশ কিছু সৃজনশীল ও কৌশলগত পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন তারা।
হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর সময় ইরানের কাছে প্রায় ১,৩০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে দেখা যায় সেই সংখ্যা একলাফে বেড়ে প্রায় ২,৫০০-এ দাঁড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও এই দ্রুতগতির একই চিত্র উঠে এসেছে।
চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানকে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তারা তার চেয়েও বহুগুণ দ্রুত গতিতে শক্তি বৃদ্ধি করছে। মার্কিন গোয়েন্দারা অনুমান করছেন, ছ’ মাসের মধ্যেই ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করে ফেলবে তেহরান।
একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানকে চীনের ধারাবাহিক উপাদান সরবরাহ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবরোধের ফলে এই সরবরাহের গতি কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে তেহরানের এই সামরিক উত্থানের বিপরীতে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন করে ঘোর চিন্তায় পড়েছে পেন্টাগন।
বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এটিএসিএমএস এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মজুত প্রায় শেষের পথে। এর ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে হলে মার্কিন বাহিনীকে এখন মূলত দূরপাল্লার বোমারু বিমানের ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে। একদিকে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অন্যদিকে ইরানের অপ্রতিরোধ্য পুনর্গঠন, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে এখন চরম অস্বস্তিতে পড়ে গেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্গঠনের গতিতে হতবাক ইসরায়েল-আমেরিকা

Update Time : ০১:১১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি পুনরুদ্ধারের অভাবনীয় গতি দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে পড়েছেন ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর তেহরান যেভাবে দ্রুত গতিতে নিজেদের সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন করেছে, তা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের গভীরভাবে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে ইরান বেশ কিছু সৃজনশীল ও কৌশলগত পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন তারা।
হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর সময় ইরানের কাছে প্রায় ১,৩০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে দেখা যায় সেই সংখ্যা একলাফে বেড়ে প্রায় ২,৫০০-এ দাঁড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও এই দ্রুতগতির একই চিত্র উঠে এসেছে।
চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানকে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তারা তার চেয়েও বহুগুণ দ্রুত গতিতে শক্তি বৃদ্ধি করছে। মার্কিন গোয়েন্দারা অনুমান করছেন, ছ’ মাসের মধ্যেই ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করে ফেলবে তেহরান।
একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানকে চীনের ধারাবাহিক উপাদান সরবরাহ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবরোধের ফলে এই সরবরাহের গতি কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে তেহরানের এই সামরিক উত্থানের বিপরীতে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন করে ঘোর চিন্তায় পড়েছে পেন্টাগন।
বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এটিএসিএমএস এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মজুত প্রায় শেষের পথে। এর ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে হলে মার্কিন বাহিনীকে এখন মূলত দূরপাল্লার বোমারু বিমানের ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে। একদিকে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অন্যদিকে ইরানের অপ্রতিরোধ্য পুনর্গঠন, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে এখন চরম অস্বস্তিতে পড়ে গেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।