০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে গণধর্ষণ, আটক ৬

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৪ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটা দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার মধ্যরাতে ৮ থেকে ১০ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাট শেষে একপর্যায়ে ডাকাতদলের বেশ কয়েকজন সদস্য বাড়িতে অবস্থানরত গৃহকর্ত্রী এবং তার স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা কন্যাকে জোরপূর্বক আলাদা কক্ষে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, তার ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মাসুদ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬ জনকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অধিকতর তদন্তে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস বলেন, প্রবাসীর বসতঘরে ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ডাকাতির পর মা-মেয়েকে গণধর্ষণ, আটক ৬

Update Time : ০৪:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটা দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার মধ্যরাতে ৮ থেকে ১০ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাট শেষে একপর্যায়ে ডাকাতদলের বেশ কয়েকজন সদস্য বাড়িতে অবস্থানরত গৃহকর্ত্রী এবং তার স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা কন্যাকে জোরপূর্বক আলাদা কক্ষে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, তার ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মাসুদ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬ জনকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অধিকতর তদন্তে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস বলেন, প্রবাসীর বসতঘরে ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।