১০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুরবানির ঈদের আগে নখ, চুল কাটা যাবে না— এটা কি ঠিক?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৫ Time View

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

জিলহজ মাসের আগমন শুধু কুরবানির প্রস্তুতির বার্তা নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য শিক্ষাও বহন করে। এই বরকতময় দিনগুলোতে একজন মুমিন নিজের আমল, আচরণ ও ইবাদতে বিশেষ যত্নবান হওয়ার চেষ্টা করেন। কুরবানির নিয়তকারী ব্যক্তির জন্য নখ, চুল ও শরীরের পশম না কাটার যে নির্দেশ হাদিসে এসেছে, তা মূলত আল্লাহর আদেশের প্রতি আনুগত্য ও কুরবানির মহান ইবাদতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সুন্দর প্রকাশ। এতে একজন বান্দা যেন নিজের পুরো অস্তিত্ব নিয়েই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করেন।

কুরবানির ঈদের আগে নখ, চুল কাটা যাবে না—এ বিষয়ে হাদিস শরিফে এসেছে হজরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, যার কাছে কুরবানির পশু আছে, সে ওটা কুরবানি দিতে চায় এবং জিলহজ মাসের চাঁদও দেখা গেছে; সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি যেন কুরবানি করার আগে চুল ও নখ না কাটে। যদি জিলহজ মাস শুরু না হয়, সেক্ষেত্রে নখ ও চুল কাটাতে বাধা নেই।

এই হাদিসের আলোকে হানাফি মাজহাবের স্কলাররা বলেন, যে ব্যক্তি কুরবানি দেবেন তার জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত অর্থাৎ জিলহজ মাসের প্রথম দশকে নখ, চুল ও শরীরের যেকোনও পশম না কাটা মুস্তাহাব। অর্থাৎ এটি পালন করলে সওয়াব আছে, তবে না করলে গুনাহ হবে না।

উল্লেখ্য নখ ও নাভির নিচের পশম ৪০ দিনের অতিরিক্ত যেন না হয়ে যায় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র: মুসলিম ১৯৭৭, আবু দাউদ ২৭৯১, তিরমিজি ১৫২৩, নাসাঈ ৪৩৬১, ইবনে মাজাহ ৩১৫০, মুসনাদে আহমদ ২৬৬৫৪ ও ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৮১।

ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজকে ইবাদতে পরিণত করার শিক্ষা দেয়। কুরবানির পূর্বে নখ ও চুল না কাটা বাধ্যতামূলক না হলেও এটি প্রিয় নবী (সা.)-এর একটি সুন্দর আমল ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। তাই সামর্থ্য থাকলে ভালোবাসা ও ভক্তির সঙ্গে এই মুস্তাহাব আমল পালন করা একজন মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তবে কেউ পালন করতে না পারলে তাকে দোষারোপ বা গুনাহগার মনে করা ঠিক নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা—ত্যাগ, তাকওয়া ও আন্তরিকতা অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুরবানির ঈদের আগে নখ, চুল কাটা যাবে না— এটা কি ঠিক?

Update Time : ০৫:০৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

জিলহজ মাসের আগমন শুধু কুরবানির প্রস্তুতির বার্তা নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য শিক্ষাও বহন করে। এই বরকতময় দিনগুলোতে একজন মুমিন নিজের আমল, আচরণ ও ইবাদতে বিশেষ যত্নবান হওয়ার চেষ্টা করেন। কুরবানির নিয়তকারী ব্যক্তির জন্য নখ, চুল ও শরীরের পশম না কাটার যে নির্দেশ হাদিসে এসেছে, তা মূলত আল্লাহর আদেশের প্রতি আনুগত্য ও কুরবানির মহান ইবাদতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সুন্দর প্রকাশ। এতে একজন বান্দা যেন নিজের পুরো অস্তিত্ব নিয়েই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করেন।

কুরবানির ঈদের আগে নখ, চুল কাটা যাবে না—এ বিষয়ে হাদিস শরিফে এসেছে হজরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, যার কাছে কুরবানির পশু আছে, সে ওটা কুরবানি দিতে চায় এবং জিলহজ মাসের চাঁদও দেখা গেছে; সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি যেন কুরবানি করার আগে চুল ও নখ না কাটে। যদি জিলহজ মাস শুরু না হয়, সেক্ষেত্রে নখ ও চুল কাটাতে বাধা নেই।

এই হাদিসের আলোকে হানাফি মাজহাবের স্কলাররা বলেন, যে ব্যক্তি কুরবানি দেবেন তার জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত অর্থাৎ জিলহজ মাসের প্রথম দশকে নখ, চুল ও শরীরের যেকোনও পশম না কাটা মুস্তাহাব। অর্থাৎ এটি পালন করলে সওয়াব আছে, তবে না করলে গুনাহ হবে না।

উল্লেখ্য নখ ও নাভির নিচের পশম ৪০ দিনের অতিরিক্ত যেন না হয়ে যায় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র: মুসলিম ১৯৭৭, আবু দাউদ ২৭৯১, তিরমিজি ১৫২৩, নাসাঈ ৪৩৬১, ইবনে মাজাহ ৩১৫০, মুসনাদে আহমদ ২৬৬৫৪ ও ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৮১।

ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজকে ইবাদতে পরিণত করার শিক্ষা দেয়। কুরবানির পূর্বে নখ ও চুল না কাটা বাধ্যতামূলক না হলেও এটি প্রিয় নবী (সা.)-এর একটি সুন্দর আমল ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। তাই সামর্থ্য থাকলে ভালোবাসা ও ভক্তির সঙ্গে এই মুস্তাহাব আমল পালন করা একজন মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তবে কেউ পালন করতে না পারলে তাকে দোষারোপ বা গুনাহগার মনে করা ঠিক নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা—ত্যাগ, তাকওয়া ও আন্তরিকতা অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।