০৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টি-বন্যায় অস্থির কাঁচাবাজার, বাড়ল সবজি-মাছের দাম

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

টানা বৃষ্টি আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাব এবার পড়েছে রাজধানীর ক্ষেতে ফসলের ক্ষতি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে আরও বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি ও ইলিশসহ সাধারণ মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়। কোথাও কোথাও ২৬০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। শসা ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

খিলক্ষেত বাজারের সবজি বিক্রেতা জগন্নাথ বলেন, বন্যার কারণে অনেক এলাকার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার যেসব এলাকা থেকে সবজি আসছে, সেখান থেকেও সরবরাহ কম। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।

সবজির বাড়তি দামে হতাশ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা শামিমা বলেন, প্রতি সপ্তাহেই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগে ১ হাজার টাকায় কয়েক দিনের বাজার হয়ে যেত, এখন শুধু সবজি কিনতেই সেই টাকা শেষ হয়ে যায়।

গৃহিণী প্রেমা বলেন, কাঁচামরিচ, শসা, বেগুন-সবকিছুর দাম অনেক বেশি। সংসারের খরচ বারবার পরিবর্তন করতে হচ্ছে। প্রয়োজনের সব জিনিস আর কেনা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে মুরগির বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালি ও লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। মুরগি বিক্রেতা রুবেল হোসেন বলেন, খামার থেকেই মুরগির দাম বেশি। সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।

ডিমের বাজার অবশ্য স্থিতিশীল রয়েছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, ডিমের সরবরাহ এখন মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে। তাই গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি করছি।

তবে মাছের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে।

মাছ বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। তাই কয়েকটি প্রজাতির মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশি পণ্য আমদানি বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বান গভর্নরের

টানা বৃষ্টি-বন্যায় অস্থির কাঁচাবাজার, বাড়ল সবজি-মাছের দাম

Update Time : ০১:৫২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

টানা বৃষ্টি আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাব এবার পড়েছে রাজধানীর ক্ষেতে ফসলের ক্ষতি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে আরও বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি ও ইলিশসহ সাধারণ মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়। কোথাও কোথাও ২৬০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। শসা ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

খিলক্ষেত বাজারের সবজি বিক্রেতা জগন্নাথ বলেন, বন্যার কারণে অনেক এলাকার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার যেসব এলাকা থেকে সবজি আসছে, সেখান থেকেও সরবরাহ কম। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।

সবজির বাড়তি দামে হতাশ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা শামিমা বলেন, প্রতি সপ্তাহেই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগে ১ হাজার টাকায় কয়েক দিনের বাজার হয়ে যেত, এখন শুধু সবজি কিনতেই সেই টাকা শেষ হয়ে যায়।

গৃহিণী প্রেমা বলেন, কাঁচামরিচ, শসা, বেগুন-সবকিছুর দাম অনেক বেশি। সংসারের খরচ বারবার পরিবর্তন করতে হচ্ছে। প্রয়োজনের সব জিনিস আর কেনা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে মুরগির বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালি ও লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। মুরগি বিক্রেতা রুবেল হোসেন বলেন, খামার থেকেই মুরগির দাম বেশি। সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।

ডিমের বাজার অবশ্য স্থিতিশীল রয়েছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, ডিমের সরবরাহ এখন মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে। তাই গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি করছি।

তবে মাছের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে।

মাছ বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। তাই কয়েকটি প্রজাতির মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।