০৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাইলস্টোন ট্রাজেডি

‎ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৬ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

‎রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

‎আজ বৃহস্পতিবার নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা এই মামলার আবেদন করেছেন।

‎‎ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেছেন।

‎‎বাদী পক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎‎মামলার আবেদনে আসামিরা হলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার কমান্ডিং অফিসার মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, অফিসার কমান্ডিং ম্যানটেইনেন্স গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের গভার্নিং বডি উপদেষ্টা নুরনবী (অব. কর্ণেল), মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ফিল্ড সুপার ভাইজার (উত্তরা), শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

‎মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে নিরাপত্তা বিবেচনা ছাড়াই যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এফ-৭ যুদ্ধবিমানকে জনবহুল ঢাকা শহরের ওপর প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের অনুমতি দেন। এর ফলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানি ঘটে।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষতিপূরণের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎‎অনুপযুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্কুল-কলেজ পরিচালনা এবং অনুপযোগী ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়ার কারণেও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত বা বিচারের আওতায় না এনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের চিকিৎসা, উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনায় অবহেলার কারণে অনেক শিশু স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

‎‎আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় বাদীর ছেলে মৃত্যুবরণ করেন। দুই নম্বর সাক্ষী আশরাফুল ইসলামের দুই সন্তানও মৃত্যুবরণ করায় তিনি নিঃসন্তান হয়ে গেছেন। এই মামলার সাক্ষী মো. রেজাউল করিম এবং মুহাম্মদ আব্দুল সামাদের একটি করে সন্তানের মৃত্যু হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে সাক্ষীদের উত্তরাধিকার চিরতরে বিলুপ্তি ঘটে এবং বাদী এবং সাক্ষীদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এই ঘটনায় বাদী ও সাক্ষীদের কোনো প্রকার দায় ছিল না। দোষও ছিল না। এই ঘটনায় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু মারত্মকভাবে আহত হয়। অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়। সাধারণ হাসিখুশি সম্পন্ন আহত এবং পঙ্গু শিশুরা আজ তাদের পরিবারের জন্য বোঝা এবং অশান্তির কারণ বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

একটি শিশু পঙ্গু, বিকলাঙ্গ ও বিকৃত মস্তিস্কের হলে ওই পরিবারকে সারা জীবন অনুমান (৫০-৬০-৭০) বছর তার বোঝা টানতে হবে। এই দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে জীবিত পঙ্গু সন্তানদের এবং তাদের পরিবারের এক অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। এই ক্ষতির জন্য দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্ত নিহত এবং আহত বা তাদের পরিবারের কোনো প্রকার ভুল, অপরাধ বা দোষ ছিল না।

‎আসামিরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় বাদী এবং স্বাক্ষীদের সন্তানেরা সহ প্রায় দুইশত সাধারণ ছাত্র/ছাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসামিদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। আসামিরা ব্যক্তিগতভাবে এবং যৌথভাবে এই ঘটনার জন্য দায়ী। নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা এবং আহতদের নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। প্রকাশ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা দিলেও কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।

‎‎উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৬ জন নিহত হন, এর মধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বাকিতে জুস না দেওয়ায় দোকানদারকে কুপিয়ে হত্যা

মাইলস্টোন ট্রাজেডি

‎ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন

Update Time : ১২:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

‎রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

‎আজ বৃহস্পতিবার নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা এই মামলার আবেদন করেছেন।

‎‎ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেছেন।

‎‎বাদী পক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎‎মামলার আবেদনে আসামিরা হলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার কমান্ডিং অফিসার মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, অফিসার কমান্ডিং ম্যানটেইনেন্স গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের গভার্নিং বডি উপদেষ্টা নুরনবী (অব. কর্ণেল), মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ফিল্ড সুপার ভাইজার (উত্তরা), শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

‎মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে নিরাপত্তা বিবেচনা ছাড়াই যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এফ-৭ যুদ্ধবিমানকে জনবহুল ঢাকা শহরের ওপর প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের অনুমতি দেন। এর ফলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানি ঘটে।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষতিপূরণের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎‎অনুপযুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্কুল-কলেজ পরিচালনা এবং অনুপযোগী ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়ার কারণেও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত বা বিচারের আওতায় না এনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের চিকিৎসা, উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনায় অবহেলার কারণে অনেক শিশু স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

‎‎আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় বাদীর ছেলে মৃত্যুবরণ করেন। দুই নম্বর সাক্ষী আশরাফুল ইসলামের দুই সন্তানও মৃত্যুবরণ করায় তিনি নিঃসন্তান হয়ে গেছেন। এই মামলার সাক্ষী মো. রেজাউল করিম এবং মুহাম্মদ আব্দুল সামাদের একটি করে সন্তানের মৃত্যু হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে সাক্ষীদের উত্তরাধিকার চিরতরে বিলুপ্তি ঘটে এবং বাদী এবং সাক্ষীদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এই ঘটনায় বাদী ও সাক্ষীদের কোনো প্রকার দায় ছিল না। দোষও ছিল না। এই ঘটনায় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু মারত্মকভাবে আহত হয়। অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়। সাধারণ হাসিখুশি সম্পন্ন আহত এবং পঙ্গু শিশুরা আজ তাদের পরিবারের জন্য বোঝা এবং অশান্তির কারণ বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

একটি শিশু পঙ্গু, বিকলাঙ্গ ও বিকৃত মস্তিস্কের হলে ওই পরিবারকে সারা জীবন অনুমান (৫০-৬০-৭০) বছর তার বোঝা টানতে হবে। এই দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে জীবিত পঙ্গু সন্তানদের এবং তাদের পরিবারের এক অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। এই ক্ষতির জন্য দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্ত নিহত এবং আহত বা তাদের পরিবারের কোনো প্রকার ভুল, অপরাধ বা দোষ ছিল না।

‎আসামিরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় বাদী এবং স্বাক্ষীদের সন্তানেরা সহ প্রায় দুইশত সাধারণ ছাত্র/ছাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসামিদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। আসামিরা ব্যক্তিগতভাবে এবং যৌথভাবে এই ঘটনার জন্য দায়ী। নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা এবং আহতদের নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। প্রকাশ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা দিলেও কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।

‎‎উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৬ জন নিহত হন, এর মধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন।