০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অবাধ তথ্যপ্রবাহই যথেষ্ট নয়, তা হতে হবে সঠিক ও পরিচ্ছন্নও। ফ্রি ইনফরমেশনের পাশাপাশি ক্লিন ইনফরমেশন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।’

শনিবার (২ মে) নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রকে একটি গাড়ির সঙ্গে উপমা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র একটি গাড়ির মতো। এটার মালিক হলেন জনগণ আর চালকের আসনে থাকেন নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সরকার। চালক ভুল বা অপরাধ করলে স্টেকহোল্ডারসহ যাত্রীরা নানা অভিযোগ করেন। এর পরও আসন থেকে উঠতে চাননি চালক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘাড় ধরে তাকে বের করে দিয়েছেন মালিকরা। এরপর নতুন চালক নিয়োগ করেছে সবাই। তবে স্বাভাবিকভাবেই এ চালক ঘাবড়ে ছিলেন। কারণ আগের চালককে ঘাড় ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়ার দৃশ্য দেখেছেন তিনি। এরপর সবার স্বতঃস্ফূর্ত জনমতে নতুন চালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আমাদের সরকার। এ সরকার সবার কথাই খুব বিনয়ের সঙ্গে ও মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন চালক এলেও গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আগেই চুরি হয়ে গেছে। ইঞ্জিনও নষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে নতুন চালকের জন্য গাড়ি চালানো অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তাকে উদ্যোগ নিতে গেলেও যেমন সমালোচনার মধ্যে পড়তে হবে, না নেওয়ার মধ্যেও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি রাজনৈতিক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন তাকে এই মনোজগৎ বোঝার জন্য একজন বিজ্ঞানী হতে হয়। এ কারণেই রাজনীতি সম্পর্কিত বিষয়টিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের গঠিত রাষ্ট্রের জনগণের ভবিষ্যৎ এবং বর্তমানকে নিশ্চিত করার একটা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিজ্ঞান।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো আবেগনির্ভর বক্তৃতা বা সাহিত্য নয়। বরং এটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া। একটি সরকারকে অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হয়। ক্ষমতার ভেতরে এমন কিছু ভাইরাস থাকে, যা রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ না করলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া অ্যান্টিভাইরাস না থাকলে নতুন ভাইরাস দেবতাকেও শয়তানে পরিণত করতে পারে।’

ডিজিটাল যুগের পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম যে ইকোসিস্টেমে বড় হয়েছে, তা আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন। আমাদের পূর্ব প্রজন্মকে যেমন বুঝতে হবে যে, এই ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মিলিয়ে কিভাবে সৃজনশীলতা চর্চা করতে পারি। যদি এটা করা যায়, তাহলেই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। তবে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই হতে পারে এ সমাধানের যাত্রাবিন্দু। তাদের কাছ থেকেই বড় ধরনের সমাধানের অংশীদারের দায়িত্ব পেতে পারি আমরা। আমরা যেমন জেন-জির কাছ থেকে নানারকম সঠিক-বেঠিক জ্ঞান নিচ্ছি। তেমনি এ ধরনের ফ্রিডম অব প্রেসকে নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ বাস্তবতাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রোডম্যাপ কী হতে পারে, তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে এ প্রজন্ম।’

তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অবাধ তথ্যপ্রবাহই যথেষ্ট নয়, তা হতে হবে সঠিক ও পরিচ্ছন্নও। ফ্রি ইনফরমেশনের পাশাপাশি ক্লিন ইনফরমেশন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সভ্যতার জন্য তথ্য এক ধরনের অক্সিজেন সমতুল্য বিষয়। তাই এমন অক্সিজেন সমতুল্য তথ্যপ্রবাহের বিষয়টিকে আমাদের অবশ্যই সুনিশ্চিত করতে হবে। এটাই হওয়া উচিত আমাদের এবারের বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসের প্রতিশ্রুতি।’

আলোচনাসভায় নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আরো অনেকে অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

Update Time : ০৬:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অবাধ তথ্যপ্রবাহই যথেষ্ট নয়, তা হতে হবে সঠিক ও পরিচ্ছন্নও। ফ্রি ইনফরমেশনের পাশাপাশি ক্লিন ইনফরমেশন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।’

শনিবার (২ মে) নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রকে একটি গাড়ির সঙ্গে উপমা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র একটি গাড়ির মতো। এটার মালিক হলেন জনগণ আর চালকের আসনে থাকেন নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সরকার। চালক ভুল বা অপরাধ করলে স্টেকহোল্ডারসহ যাত্রীরা নানা অভিযোগ করেন। এর পরও আসন থেকে উঠতে চাননি চালক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘাড় ধরে তাকে বের করে দিয়েছেন মালিকরা। এরপর নতুন চালক নিয়োগ করেছে সবাই। তবে স্বাভাবিকভাবেই এ চালক ঘাবড়ে ছিলেন। কারণ আগের চালককে ঘাড় ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়ার দৃশ্য দেখেছেন তিনি। এরপর সবার স্বতঃস্ফূর্ত জনমতে নতুন চালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আমাদের সরকার। এ সরকার সবার কথাই খুব বিনয়ের সঙ্গে ও মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন চালক এলেও গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আগেই চুরি হয়ে গেছে। ইঞ্জিনও নষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে নতুন চালকের জন্য গাড়ি চালানো অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তাকে উদ্যোগ নিতে গেলেও যেমন সমালোচনার মধ্যে পড়তে হবে, না নেওয়ার মধ্যেও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি রাজনৈতিক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন তাকে এই মনোজগৎ বোঝার জন্য একজন বিজ্ঞানী হতে হয়। এ কারণেই রাজনীতি সম্পর্কিত বিষয়টিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের গঠিত রাষ্ট্রের জনগণের ভবিষ্যৎ এবং বর্তমানকে নিশ্চিত করার একটা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিজ্ঞান।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো আবেগনির্ভর বক্তৃতা বা সাহিত্য নয়। বরং এটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া। একটি সরকারকে অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হয়। ক্ষমতার ভেতরে এমন কিছু ভাইরাস থাকে, যা রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ না করলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া অ্যান্টিভাইরাস না থাকলে নতুন ভাইরাস দেবতাকেও শয়তানে পরিণত করতে পারে।’

ডিজিটাল যুগের পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম যে ইকোসিস্টেমে বড় হয়েছে, তা আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন। আমাদের পূর্ব প্রজন্মকে যেমন বুঝতে হবে যে, এই ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মিলিয়ে কিভাবে সৃজনশীলতা চর্চা করতে পারি। যদি এটা করা যায়, তাহলেই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। তবে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই হতে পারে এ সমাধানের যাত্রাবিন্দু। তাদের কাছ থেকেই বড় ধরনের সমাধানের অংশীদারের দায়িত্ব পেতে পারি আমরা। আমরা যেমন জেন-জির কাছ থেকে নানারকম সঠিক-বেঠিক জ্ঞান নিচ্ছি। তেমনি এ ধরনের ফ্রিডম অব প্রেসকে নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ বাস্তবতাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রোডম্যাপ কী হতে পারে, তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে এ প্রজন্ম।’

তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অবাধ তথ্যপ্রবাহই যথেষ্ট নয়, তা হতে হবে সঠিক ও পরিচ্ছন্নও। ফ্রি ইনফরমেশনের পাশাপাশি ক্লিন ইনফরমেশন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সভ্যতার জন্য তথ্য এক ধরনের অক্সিজেন সমতুল্য বিষয়। তাই এমন অক্সিজেন সমতুল্য তথ্যপ্রবাহের বিষয়টিকে আমাদের অবশ্যই সুনিশ্চিত করতে হবে। এটাই হওয়া উচিত আমাদের এবারের বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসের প্রতিশ্রুতি।’

আলোচনাসভায় নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আরো অনেকে অংশ নেন।